পুজোর সময় স্বাভাবিক ভাবেই একটা ট্রেন্ড থাকে মেদ ঝরানোর৷ পুজোর কয়েকদিন যেন নতুন জামাকাপড়ে আর একটু সুন্দর দেখায়৷ সেই আশায় চটজলদি উপায়ে রোগা হওয়ার নানা উপায় অনেকেই অবলম্বন করে থাকেন। এখন ইন্সটাগ্রাম ইউটিউবে রিল ভিডিয়ো দেখেও অনেকে রোগা হওয়ার জন্য ডায়েট করে থাকেন৷ কিন্তু এভাবে কি আদৌ রোগা হওয়া যায়? আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে।
তিনি বলেন, " চটজলদি নয়, নিয়মত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মধ্যে থাকলে ওজন কমানো সম্ভব৷ পর্যাপ্ত জল খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সময় মতো আর অল্প একটু শরীরচর্চা এটুকুই দরকার৷"
শ্রেয়া বলেন, "অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, ১০ দিনে ১০ কেজি ওজন কমান বা নির্দিষ্ট একটা ওষুধ খেয়ে নিন দু'দিনে বেলি ফ্যাট ঝরে যাবে৷ এই ধরনের কিছু না করাই ভাল। এখন সকলে চটজলদি ফল চায়৷ কিন্তু এই চটজলদি ওজন কমাতে গিয়ে কেউ হয়তো প্রায় সারাদিন না খেয়ে থাকল বা সারাদিন জুস খেল, এর ফলে ওজন হয়তো কমে গেল কিন্তু দেখা গেল অন্য শারীরিক সমস্যা, গ্যাস্ট্রাইটিস, রক্তচাপ কমে যাওয়া, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, অতিরিক্ত ক্লান্তি, এমনকি আলসার যদি হয়ে যায় তাহলে কিন্তু মারাত্মক হবে।"
শ্রেয় বলেন, অনেকের ধারণা কেবল ঝাল খেলেই আলসার হয়, তা কিন্তু নয়৷ অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলেও আলসার হতে পারে৷ "আমরা সাধারণত নায়ক নায়িকাদের মতো আকর্ষণীয় চেহারা, সুন্দর স্কিন পেতে চাই৷ তাঁরা যে পরিমাণ চর্চা করেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়৷ অনেক সময় কোনও তারকাকে বলতে শোনা যায়, সারাদিনে একবার বা দু'বার খাবার খান, এই যে ক্যালোরি কম করা এটা একদিনের বিষয় নয়৷ এটা দীর্ঘদিনের অনুশীলনের পরে তাঁর অর্জন। হঠাৎ করে এটা করতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে৷ কারণ আপনার শরীর এতদিন ধরে একভাবে অভ্যস্ত, হঠাৎ খাওয়া কম করলে ক্যালোরির ঘাটতি হবে৷ এর ফলে স্ট্রেস তৈরি হবে। খাবারই আমাদের শরীরে এনার্জির উৎস। তাই হঠাৎ খুব কম খেলে ক্লান্ত লাগবে।"
এই প্রসঙ্গে শ্রেয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সতর্ক করেন৷ অনেকেই রোগা হওয়ার দু'-তিনমাস পর হঠাৎ মোটা হয়ে যান৷ এর কারণ অনিয়মিত জীবনযাত্রা৷ ঘুম ভীষণ জরুরি৷ ঘুম ঠিক না হলে স্ট্রেস বাড়বে৷ স্ট্রেস থেকেও ওজন বেড়ে যায়৷ হঠাৎ খাবার কম করায় শরীরে সুইট ক্রেভিং বেড়ে যায়৷ এর ফলে নতুন করে যে ওজন বাড়ে সেটা কমানো আগের থেকেও কঠিন হয়৷
সুইট টুথ হলে কী করবেন?
শ্রেয়া জানান, সবকিছুই খাওয়া যায় কিন্তু কতটা খাচ্ছি আমার শরীরে কতটা দরকার এটা বুঝতে হবে৷ ডায়াবেটিস না থাকলে মিষ্টি অল্প খেতেই পারেন৷ যদি কোনদিন রাতে পায়েস বা কাস্টার্ড খাবেন ঠিক করেন তাহলে সেদিন ভাত বা রুটি যা খান সেটা কম খেতে হবে৷ তাহলেই অনেক বেশি ক্যালোরি গেল না, আর ওজনও বাড়ল না। রাত জেগে কাজ করলে অল্প ড্রাই ফ্রুটস খেতে পারেন৷
পুজোর আগে রোগা হওয়া কি সম্ভব নয়?
বিয়ে বা পুজো যে কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সকলে খাবেন আনন্দ করবেন, সুন্দর দেখতে লাগুক সকলেই চান৷ এই ওজন কমানো বা ফিট হওয়ার প্রক্রিয়াটা কিছুদিন আগে থেকে শুরু করতে হবে৷ ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলে আপনার শরীরের জন্য কোন ডায়েট প্ল্যান ঠিক হবে, সেই মতো শুরু করুন৷ ঘরোয়া খাবার খান, ৭-৮ ঘন্টা ঘুম দরকার আর জল খান পরিমাণমতো৷ ঘুম ঠিক হলে এমনিতেই ফ্রেশ লাগবে দেখতে৷
কতদিন আগে থেকে শুরু করতে হবে?
ওজন কতটা কম করবেন তার উপর নির্ভর করে৷ মোটামুটি দুই তিন মাস হাতে সময় রেখে শুরু করা ভাল৷ এবার যদি কারও ৯০ কেজি ওজন থাকে, সে তো ৬০ কেজি করে ফেলতে পারবে না৷ কিন্তু অবশ্যই কিছুটা কমবে।
এই কয়েকদিন কী কী খাওয়া যেতে পারে?
ঘরোয়া খাবার৷ সবজি অনেকটা খান৷ মাছ মাংস অথবা ডাল অথবা পনির খাবেন ১/৪ ভাগ৷ কার্বোহাইড্রেট ১/৬ ভাগ আর একটু স্যালাড৷ বিকালে একটু ফল, ড্রাই ফ্রুট খাওয়া যেতে পারে৷ তবে আবারও বলব পরিমাণ মেপে খেতে হবে সবটাই৷ ফল ভাল বলে প্রচুর ফল খেয়ে নিলাম সেটা ঠিক নয়৷
রাতের খাবার কখন খাওয়া উচিত?
ঘুমানোর তিন ঘণ্টা আগে ডিনার করা উচিত৷ আমরা সেই কারণে আটটার মধ্যে বলে থাকি যাতে এগারোটার মধ্যে ঘুমোতে গেলে রুটিনটা ঠিক থাকে৷ কিন্তু এখনকার কাজের ধরন বদলেছে৷ সকলের ক্ষেত্রে তো এটা করা সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে সাতটা আটটার মধ্যে যদি ভারী খাবারটা খেয়ে নিয়ে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অল্প একটু শশা, স্যুপ খেয়ে নিলেন তাহলেও উপকার হতে পারে৷