Loading...

দুর্গার আরাধনার খরচ যোগাচ্ছে অন্নপূর্ণা, শুভেন্দু জমানায় এই শরতে খুশির জোয়ার শিমলাগড়ে...

মিল্টন সেন, হুগলি: গ্রামে দূর্গা পুজো হতো না। মাতৃ আরাধনার সাধ থাকলেও, সাধ্য ছিল না। দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে যেন 'ঘুমিয়ে' কাটাত গোটা গ্রাম। এবারে বদলে গিয়েছে ছবিটা। মাতৃ আরাধনার ব্যস্ততা গ্রাম জুড়ে। খরচ যোগাচ্ছে অন্নপূর্ণা। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকায় প্রথম দুর্গাপুজো হতে চলেছে শিমলাগড়ে। সেটার কৃতিত্ত্ব সম্পূর্ণই গ্রামের মহিলাদের।

শারদোৎসবের দিনগুলিতে চারিদিকে যখন ঢাকের আওয়াজে মুখরিত হতো, তখন ঘুমিয়ে থাকত শিমল গড়ের গোয়ারা হাটপুকুর গ্রাম। এবার ঘুম ভাঙছে যেন। প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন করছে পান্ডুয়ার শিমলাগড় গোয়ারা হাটপুকুর গ্রামের মহিলারা। পুজোয় কোনও সরকারি অনুদান নেই। কারও কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায়ও করাও হচ্ছে না। পুজো হচ্ছে সম্পূর্ণই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকায়। স্থানীয় মাতৃশক্তি কমিটির পরিচালনায় এই পুজোর আয়োজন।

ADVERTISEMENT

২৬এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হবে। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে তিন হাজার টাকা। কেউ চার মাস, কেউ দু'মাস, কেউ এক মাসের টাকা পেয়েছেন। গ্রামের ৬০জন মহিলা এক মাসের ৩০০০ টাকা করে দিয়ে মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বাজেটে এই পুজো করছেন। যাঁরা অন্নপূর্ণার ভান্ডার পেয়েছেন তারা যেমন এগিয়ে এসেছেন, যাঁরা এখনও পাননি, তাঁরাও এগিয়ে এসেছেন।

আরও পড়ুন

ইতিমধ্যেই পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণ ,ঢাকের বাদ্দি, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে হয়েছে খুঁটি পুজো। সেখানে হাজির ছিলেন পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার। স্থানীয় কণিকা মণ্ডল বলেন, 'এবছর প্রথম দুর্গাপুজো করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চার মাস তিন হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার দিয়েছেন। ৬০ জন মহিলা এক মাসের ৩০০০ টাকা করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দিয়ে দুর্গাপুজো করা হচ্ছে। নারীরা সবই পারে। যাঁরা পুজো করছেন তারা সবাই গৃহবধূ। কেউ অন্য কোনও কাজ করে না। তিন হাজার টাকাটা সকলের কাছে অনেক বড় পাওয়া।' স্থানীয় অপর্ণা মণ্ডল বলেন, '৩০০০ টাকা দেওয়ার কথা আগে কোনও সরকার ভাবেনি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিচ্ছে। এই অর্থ একজন গৃহবধূর কাছে অনেক বড় পাওয়া। সেই কারণেই আমরা পুজোর আয়োজন করতে পারছি।' মুক্তি হালদার বলেন, 'এবছর আমরা প্রথম পুজো করছি, কোনও সরকারি অনুদান ছাড়াই। ৬০ জন মহিলা মিলে অন্নপূর্ণার টাকায় পুজোর আয়োজন করছি। এর আগের সরকার লক্ষ্মী ভাণ্ডার দিয়েছে, কিন্তু সে টাকায় পুজো করা সম্ভব হয়নি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে সেই টাকা দ্বিগুণ করে দিয়েছে তাই গ্রামের মহিলারা এগিয়ে এসেছে, পুজো হচ্ছে।'

পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, 'মাতৃশক্তির উদয় হচ্ছে। আগেও ছিল। এখন বেশি করে জাগ্রত হচ্ছে। কারও কোনও অনুদান না নিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ দিয়ে তাঁরা নিজের ক্ষমতায় পুজো করছেন। এই সরকারের দীর্ঘায়ু কামনা করছেন তাঁরা। তাঁদের এই আয়োজন সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে।'

ADVERTISEMENT