আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর মাত্র কয়েকদিন পরেই কালীপুজো। শহর কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে ক্লাবে ক্লাবে ইতিমধ্যেই পুরোদমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। তার মধ্যেই বারোয়ারি সংস্থাগুলির জন্য সুখবর। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কালীপুজোগুলিকে বিশেষ স্বীকৃতি দিতে এবার আয়োজন করা হচ্ছে ‘কালীকৃতি’ সম্মানের।
এই স্বীকৃতি অন্যান্য সম্মানগুলির চেয়ে কিছুটা আলাদা। তার কারণ? কালীকৃতি সম্মানে সেরা পুজো বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের তালিকায় একদিকে যেমন বিশিষ্টজনেরা থাকছেন তেমনই থাকছেন পুজো সংগঠকরাও। তাছাড়া, পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেও পুজোর পাশাপাশি নজর রাখা হচ্ছে শিল্পীদের ওপরেও।
কালীকৃতি সম্মান পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারবেন সমগ্র কলকাতা এবং ডানলপের কিছুটা অংশের পুজো কমিটিগুলি। অংশ নিতে পারবে দমদম, সল্টলেক অংশের পুজো কমিটিগুলিও। দুর্গাপুজোর মতো যে সমস্ত ক্লাব কালীপুজোতে থিমপুজো করে সেই থিম পুজোর জায়গাটাকে আরও উৎসাহিত করতে মূলত এই কালীকৃতি সম্মান প্রতিযোগিতার আয়োজন।
শিল্পী এবং সংগঠক উভয়ের চোখেই বেছে নেওয়া হবে কলকাতা এবং শহরতলির সেরা কালীপুজোগুলিকে। অনলাইনে ফর্ম ফিল আপ করে নাম রেজিস্টার করা যাবে। ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। প্রাথমিক রাউন্ডের পর বেছে নেওয়া হবে ১০টি পুজো কমিটিকে। সেখান থেকে বেছে নেওয়া হবে সেরা ৫টি পুজোকে।
কারা থাকবেন বিচারকের প্যানেলে?
কালীকৃতি সম্মানের অন্যতম সদস্য অভিরূপ দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন, বিচারকমণ্ডলীতে যেমন পুজো সংগঠকরা থাকছেন, তেমনই থাকছেন শিল্পজগতের বিশিষ্টজনেরাও। প্রতিযোগিতার আয়োজকদের মতে, যাঁরা কলকাতার দুর্গাপুজোর সংগঠক তাঁরা জানেন পুজো করতে গেলে কী কী বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে হয়। সেটাকে কাটিয়ে পুজো করতে হয়। সে কারণে বিচারকের জায়গায় রাখা হয়েছে সংগঠকদের। প্রাথমিক রাউন্ডে থাকছেন ১২ জন বিচারক। ফাইনাল রাউন্ডে ১০টি পুজো কমিটি থেকে সেরা পাঁচ পুজো কমিটি বেছে নেবেন ৬ জন বিচারক।
কী কী পুরস্কার থাকছে?
বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে থাকছে কালীকৃতি সম্মানের একটি ট্রফি। তার সঙ্গে থাকছে নগদ পুরস্কার, মিষ্টির হাঁড়ি সহ আরও কিছু জিনিস। ৫ নভেম্বর থেকে একে একে বিচারকরা পুজো মণ্ডপগুলিতে প্রদর্শন করবেন। ৮ নভেম্বর অর্থাৎ কালীপুজোর সকালে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। প্রথম তিনে থাকা পুজো কমিটিগুলিকে কৃতি পুজো হিসেবে দেওয়া হবে ১০ হাজার নগদ পুরস্কার।
শিল্পের বিচারে আর্টিস্টিক এক্সেলেন্স বা সৃজন কৃতি পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে ৫০০০ টাকা। শ্রেষ্ঠ প্রতিমা বা শ্রেষ্ঠ বিগ্রহের ক্ষেত্রে দেওয়া হবে ৫০০০ টাকা। প্রথম পাঁচে থাকা পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সেরা সুরক্ষার পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার থাকছে।
এই উদ্যোগের পিছনে কী ভাবনা?
আয়োজকরা জানাচ্ছেন, কালীপুজোর অনেক প্রতিযোগিতা হয়। কিন্তু তার মধ্যে থেকেও একটু অন্য ধরনের, একটু আলাদা রকম ভাবে কোনও প্রতিযোগিতা আয়োজন করাটাই কালীকৃতি সম্মানের মূল উদ্দেশ্য। শিল্পী এবং সংগঠক উভয়ের চোখে একসঙ্গে সেরা কালীপুজো বেছে নেওয়াটা অভিনব উদ্যোগ।