Loading...

পুজোয় জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া, ডায়াবেটিস থাকলে সতর্কতা জরুরি, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বদলে নিন সকালে ৫ অভ্যাস

  • নিজস্ব সংবাদদাতা

  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১০

পুজো মানেই আনন্দ, ঠাকুর দেখা আর রকমারি খাবার। ষষ্ঠী থেকে দশমী—কয়েকদিনের উৎসবে রেস্তরাঁর খাবার থেকে মিষ্টি, শরবত কিংবা নানা ধরনের ভাজাভুজি, পছন্দের খাবারের তালিকা বেশ লম্বা হয়। ডায়াবেটিস থাকলে এই সময় খাবারের দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু পুজোর ক'দিন কী খাচ্ছেন, সেটাই নয়—দিনের শুরুটাও গুরুত্বপূর্ণ। সকালে কয়েকটি সাধারণ ভুল অভ্যাস রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পুজোর আগে থেকেই এই ৫ অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।

1. ঘুম থেকে উঠেই চা-কফি নয়

ADVERTISEMENT

পুজোর ব্যস্ততায় ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ চা বা কফি দিয়ে দিন শুরু করার অভ্যাস অনেকেরই। খালি পেটে ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কর্টিসলের মাত্রা বাড়াতে পারে। তার প্রভাবে সাময়িক ভাবে রক্তে শর্করাও বাড়তে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমে জল খেতে পারেন। চা বা কফি খেলে তার সঙ্গে হালকা খাবার রাখুন।

আরও পড়ুন

2. প্যান্ডেল হপিংয়ের চাপে ব্রেকফাস্ট বাদ দেবেন না

পুজোর সকালে তাড়াহুড়ো করে বেরোতে গিয়ে অনেকেই ব্রেকফাস্ট করেন না। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে পরে অতিরিক্ত খিদে পেতে পারে এবং দুপুরে বেশি পরিমাণে ভাত, বিরিয়ানি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই সকালে প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেয়ে বেরোন।

3. খালি পেটে অতিরিক্ত শরীরচর্চা নয়

পুজোর আগে ওজন কমানোর জন্য অনেকে হঠাৎ শরীরচর্চার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু খালি পেটে খুব জোরে বা দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করলে শরীরে স্ট্রেস তৈরি হতে পারে। কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তে আসতে পারে। তাই নিজের শরীরের ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম করুন।

4. ঘুম থেকে উঠেই মোবাইলে ডুব নয়

সকালে চোখ খুলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পুজোর আপডেট, অফিসের মেল বা খবর দেখতে শুরু করছেন? এতে দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ বাড়তে পারে। স্ট্রেসের সঙ্গে কর্টিসলের সম্পর্ক রয়েছে, আর কর্টিসল রক্তে শর্করার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকালে কিছুটা সময় ফোন থেকে দূরে থেকে দিন শুরু করার চেষ্টা করুন।

5. ‘হেলদি’ ভেবে জুস খাবেন না

পুজোর আগে শরীর ঠিক রাখতে সকালে ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস করছেন? গোটা ফলের তুলনায় জুসে ফাইবার কম থাকে। ফলে ফলের প্রাকৃতিক চিনি তুলনামূলক দ্রুত শরীরে পৌঁছতে পারে। পুজোর দিনেও মিষ্টি পানীয় বা প্যাকেটজাত জুসের বদলে জল, চিনি ছাড়া পানীয় বা গোটা ফল বেছে নেওয়া যেতে পারে।

পুজোয় খাবারের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রয়োজন নেই। বরং আগে থেকেই রুটিনটা একটু গুছিয়ে রাখলে উৎসবের দিনগুলিতে খাবারদাবার সামলানো সহজ হয়। তবে ডায়াবেটিস থাকলে ওষুধ, খাবার বা শরীরচর্চার রুটিনে বড় কোনও পরিবর্তন করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ADVERTISEMENT