বাঙালির নস্ট্যালজিয়ার সঙ্গে যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে মুড়ি আর বেগুনি৷ পুজোর ছুটিতে বাড়িতে বন্ধুদের আড্ডা হোক বা পাড়ার সকলে মিলে একসঙ্গে গল্প করার সময় মুচমুচে বেগুনি হলে জমে যায় আড্ডা। বাইরে থেকে কিনে খাওয়ার বদলে পুজোর ছুটিতে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন দোকানের মতো ফুলে ওঠা, মুচমুচে বেগুনি। দেখে নিন কীভাবে বানাবেন৷
কী কী লাগবে?
বেসন – ৩ কাপ (৩০০ গ্রাম)
চালের গুঁড়ো – ১ কাপ (৬০ গ্রাম)
হলুদ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো – হাফ চা চামচ
গুঁড়ো চিনি – দেড় চা চামচ
নুন – স্বাদমতো
ঠান্ডা জল – ব্যাটার তৈরির জন্য
সাদা তেল – ভাজার জন্য
বিট নুন – পরিবেশনের জন্য
কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে বেগুনের পিছনের অংশ বাদ দিয়ে লম্বালম্বিভাবে একেবারে পাতলা করে স্লাইস করে নিন। এবার একটি পাত্রে বেগুনের টুকরোগুলি রেখে সামান্য নুন ছড়িয়ে দিন। কিছুক্ষণ রেখে দিলে বেগুন থেকে বাড়তি জল বেরিয়ে আসবে এবং নুনও ভালোভাবে মিশে যাবে।
এবার আসল কাজ ব্যাটার তৈরির। একটি পাত্রে ছাঁকনির সাহায্যে বেসন, চালের গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন এবং গুঁড়ো চিনি ভালো করে চেলে নিন। এরপর অল্প অল্প করে একেবারে ঠান্ডা জল মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন।
দোকানের মতো ফুলে ওঠা বেগুনির অন্যতম রহস্য হল ব্যাটার ভাল করে ফেটানো। হাত বা হুইস্ক দিয়ে অন্তত ৮-১০ মিনিট ব্যাটারটি ভালভাবে ফেটাতে হবে। যতক্ষণ না বেসনের গাঢ় রং কিছুটা হালকা হয়ে ব্যাটার ফ্লাফি হয়ে যায়, ততক্ষণ ফেটাতে থাকুন।
ব্যাটার ঠিক হয়েছে কি না দেখতে একটি চামচ ডুবিয়ে তুলুন। চামচের গায়ে যদি সুন্দরভাবে ব্যাটার লেগে থাকে, তাহলে বুঝবেন ব্যাটার তৈরি। এবার ঢাকা দিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
এদিকে নুন মাখানো বেগুনের স্লাইস থেকে জল বেরিয়ে এলে পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে প্রতিটি স্লাইস ভাল করে মুছে নিন। কড়াইতে পর্যাপ্ত তেল দিয়ে ভাল করে গরম করুন।
এবার একটি করে বেগুনের স্লাইস ব্যাটারে ডুবিয়ে অতিরিক্ত ব্যাটার ঝরিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দিন। তেলে দেওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই বেগুনিগুলি ফুলে উঠবে। উল্টেপাল্টে দু’দিক সুন্দর লালচে ও মুচমুচে করে ভেজে তুলে নিন।
গরম গরম বেগুনির উপর সামান্য বিট নুন ছড়িয়ে দিন। সঙ্গে থাকুক এক বাটি মুড়ি। চাইলে দুপুরে ডাল-ভাতের সঙ্গেও পরিবেশন করতে পারেন।
প্যান্ডেল হপিংয়ের ফাঁকে কিংবা বাড়ির আড্ডায়—পুজোর বিকেলে এক প্লেট গরম বেগুনি আর মুড়ি যে বাঙালির মন ভাল করার একেবারে চেনা কম্বিনেশন, তা বলাই যায়!