দুর্গাপুজোর শেষ দিন দশমী। উৎসবের শেষ দিনে সাজেও তাই থাকুক বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। খুব বেশি ঝলমলে বা ভারী মেকআপ নয়, বরং সিম্পল অথচ এলিগ্যান্ট ট্র্যাডিশনাল লুক-ই হতে পারে দশমীর দিনের সেরা সাজ। সাদা-লাল শাড়ি, কপালে বড় লাল টিপ, চোখে গাঢ় কাজল আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক—বাঙালি সাজের এই চেনা কম্বিনেশন দশমীর দিনে যেন আরও বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে, আজকাল ডট ইন-কে জানালেন মেকাপ আর্টিস্ট দীপ্তমা নন্দী৷
মুখের মেকআপ: মেকআপ শুরুর আগে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। এরপর খুব ভারী ফাউন্ডেশন না ব্যবহার করে হালকা থেকে মিডিয়াম কভারেজ ফাউন্ডেশন বেছে নিন। চোখের নীচে কালচে দাগ বা মুখের কোনও দাগ থাকলে কন্সিলার দিয়ে তা ঢেকে নিন। সবশেষে সামান্য লুস পাউডার দিয়ে বেস সেট করে নিন। গালে পিচ অথবা ওয়ার্ম পিঙ্ক ব্লাশ ব্যবহার করলে মুখে একটা সতেজ ভাব আসবে। খুব বেশি কন্ট্যুর করার দরকার নেই। সামান্য ব্রোঞ্জার দিতে পারেন৷ চিকবোন এবং নাকের উপর অল্প গোল্ডেন হাইলাটার লাগাতে পারেন। এতে মুখে আসবে উৎসবের দিনের নরম উজ্জ্বলতা।
চোখ আর ঠোঁট: চোখের সাজেই ফুটে উঠুক বাঙালিয়ানার ছাপ
দশমীর মেকআপে চোখের সাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ম ব্রাউন-এর সঙ্গে সফট গোল্ড আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। আইলাইনার পরুন, চাইলে ছোট উইং করতে পারেন৷ উপরের এবং নীচের ল্যাশলাইনে কালো কাজল লাগিয়ে নীচের দিকে সামান্য স্মাজ করে নিলে চোখ আরও আকর্ষণীয় দেখাবে। এরপর মাস্কারা পরুন ঘন করে৷ আর কপালে একটি মাঝারি বা বড় লাল গোল টিপ, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক৷ ম্যাট লিপস্টিক পরার আগে লিপ বাম লাগাবেন। অন্যরকম সাজতে চাইলে লালের বদলে কোরাল বা প্যাস্টেল পিঙ্ক লিপস্টিক পরুন৷
সিঁদূর: দশমীর দিনে বিবাহিত মহিলাদের সাজে সিঁদুরের গুরুত্ব আলাদা। সিঁথিতে সিঁদুরের সঙ্গে কপালে বড় লাল টিপ সাজকে আরও সুন্দর করবে৷
হেয়ারস্টাইল: চুল নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষানিরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। মাঝখান থেকে সিঁথি করে আলগা খোঁপা করে জুঁই ফুলের মালা লাগাতে পারেন শাড়ির সঙ্গে দারুণ মানাবে৷ শাড়ি না পরলে চুল খোলা রেখে সফট ওয়েভস করতে পারেন। খোলা চুলে সামান্য ফুলের গাজরা দিলে ঐতিহ্য আর আধুনিকতা দুই থাকবে৷
শাড়ি না সালোয়ার: দশমীর দিনে সাদা-লাল শাড়ি বাঙালি সাজের অন্যতম চেনা ছবি। তবে শুধু শাড়িতেই আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। লাল, সাদা, মেরুন, অফ-হোয়াইট কিংবা লাল-সোনালি রঙের সালোয়ার-কামিজও হতে পারে সুন্দর বিকল্প। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে সিল্ক বা অর্গ্যানজা দোপাট্টা নিতে পারেন এক পাশে৷
গয়না: পোশাকের সঙ্গে মানানসই ছোট ঝুমকা, চুড়ি এবং একটি সুন্দর পোটলি সাজকে সম্পূর্ণ করে দিতে পারে। পায়ে আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতো রাখলে সারাদিন স্বচ্ছন্দে থাকা যাবে। ভাসানে নাচলেও পায়ে ব্যথা কিছুটা কম হবে৷
সাজের সঙ্গে ত্বক ও চুলের যত্নও জরুরি
উৎসবের দিন শুধু মেকআপ করলেই হবে না, ত্বক ও চুল ভাল রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি৷ নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক মময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। মেকআপের আগে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন৷ দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেও ভুলবেন না।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পর্যাপ্ত ঘুম। পুজোর ব্যস্ততা, রাত জাগা ও একটানা ঘোরাঘুরির কারণে ঘুম কমে গেলে চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ পড়তে পারে। চোখের নিচে ক্লান্তি বা পাফিনেস থাকলে থাকলে আন্ডার-আই প্যাচ ব্যবহার করতে পারেন। তবে নতুন কোনও প্রসাধনী ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকে তা স্যুট করে কি না দেখে নেওয়া প্রয়োজন৷ সাজের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস আর মুখের হাসিটাই হোক আপনার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য৷ অন্তরের সৌন্দর্য আর বাহ্যিক সাজ—দুই মিলিয়েই সম্পূর্ণ হোক দশমীর বঙ্গ ললনার লুক।