পুজোর সাজ মানেই নতুন শাড়ি, কুর্তা, পাঞ্জাবি, গয়না আর ব্যাগ। কিন্তু সাজগোজের মাঝে জুতোর কথা ভুলে গেলে মাটি হতে পারে গোটা লুক। বিশেষ করে পুজোর সময়ে যদি বৃষ্টি নামে, তা হলে রাস্তার জল-কাদা থেকে শুরু করে পিচ্ছিল পথ—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করতে হবে। তার উপর এক প্যান্ডেল থেকে আর এক প্যান্ডেলে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি। তাই পুজোর জুতো বাছার সময় শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না, আরামদায়ক এবং বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা থাকাও জরুরি।
স্লাইডার হতে পারে এমনই একটি সহজ বিকল্প। শাড়ি, কুর্তা কিংবা জিন্স-টপ, বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। বৃষ্টির দিনে দামি জুতো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলক কম।
যাঁরা স্যান্ডেল পরতে স্বচ্ছন্দ, তাঁরাও সেটি বেছে নিতে পারেন। তবে পুজোয় সারাদিন হাঁটার পরিকল্পনা থাকলে খুব উঁচু হিল এড়িয়ে চলাই ভাল। পিচ্ছিল বা অসমান রাস্তায় হিল অস্বস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
আরামকে যদি ফ্যাশনের চেয়ে একটু বেশি গুরুত্ব দেন, তা হলে ক্রক্সও হতে পারে বিকল্প। জলে ভিজলেও দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং পায়ের চারপাশে জল জমে থাকার সমস্যা কম হয়। দীর্ঘক্ষণ ভেজা পায়ে থাকার ফলে ছত্রাকজনিত সমস্যার আশঙ্কাও থাকে, তাই পা শুকনো রাখার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ফ্যাশনেবল লুকের জন্য বুটও রাখা যেতে পারে পুজোর তালিকায়। বিশেষ করে বৃষ্টির জল-কাদা থেকে পা ঢেকে রাখতে এগুলি কাজে আসতে পারে। তবে আবহাওয়া ও রাস্তার পরিস্থিতি বুঝে বুট বেছে নেওয়াই ভাল।
অন্যদিকে, যাঁদের নিত্যসঙ্গী স্নিকার্স, তাঁদের পুজোর জন্য আলাদা করে খুব বেশি ভাবতে হবে না। আরামদায়ক স্নিকার্সের সঙ্গে ক্যাজুয়াল পুজোর সাজ বেশ ভালই মানায়।
সবশেষে রয়েছে ফ্লিপ-ফ্লপ। সহজে পরা যায়, জল-কাদায় নষ্ট হওয়ার ভয়ও তুলনামূলক কম। শাড়ি থেকে ওয়েস্টার্ন পোশাক, দুই ধরনের সাজের সঙ্গেই মানিয়ে নিতে পারেন। তবে যে জুতোটিই বাছুন, পুজোয় সারাদিন হাঁটার কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই জুতো পরে দেখে নেওয়া ভাল। কারণ ঠাকুর দেখার আনন্দ যেন জুতোর অস্বস্তিতে মাটি না হয়।