আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেনারস, উজ্জয়নীর পর বাংলায় একমাত্র এই রূপে মা কালীর পুজো হয়ে আসছে মধ্যমগ্রামে। যেখানে অন্যান্য কালী মূর্তির তুলনায় একেবারেই উল্টো চিত্র দেখা যায় মহাকাল মন্দিরে। মা কালী শুয়ে রয়েছেন মাটিতে। আর তাঁর শরীরের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাবা মহাদেব। এমন দৃশ্য দেখে অবাক হতে পারেন অনেকেই।
তবে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাদু রোডের ধারে অবস্থিত প্রাচীন মহাকাল মন্দিরে এভাবেই পূজিত হন মা কালী ও মহাদেব। এখানে দক্ষিণাকালী রূপেই আরাধনা করা হয় দেবীর। কিন্তু কেন এমন ব্যতিক্রমী রূপে দেখা যায় মা কালীকে! কীভাবেই বা শুরু হয়েছিল এই পুজো! এর পিছনে রয়েছে এক অদ্ভুত কাহিনি।
মন্দিরের ইতিহাস জানতে গেলে ফিরে যেতে হবে প্রায় ১৯৮০ সালেরও আগে। সেই সময় বাদু রোডের ধারে বর্তমানে যেখানে মহাকাল মন্দির অবস্থিত, সেখানে ছিল ঘন জঙ্গল। স্থানীয় কয়েকজন মানুষের আনাগোনা ছিল ওই এলাকায়। কথিত আছে, একদিন প্রবল কালবৈশাখীর ঝড়ে উড়ে এসে পড়ে একটি ক্যালেন্ডার। সেই ক্যালেন্ডারে ছিল মা কালী ও মহাদেবের এক ব্যতিক্রমী প্রতিকৃতি। ছবিতে দেখা যাচ্ছিল, মা কালী মাটিতে শুয়ে রয়েছেন এবং তাঁর শরীরের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাবা মহাদেব। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যালেন্ডারটি যত্ন করে রেখে দেন। এর পরেই তাঁদের মধ্যে একজন স্বপ্নাদেশ পান।
স্বপ্নে মহাদেবের নির্দেশ আসে, ওই ছবির রূপেই যেন পুজো শুরু করা হয়। সেই স্বপ্নাদেশ মেনেই ক্যালেন্ডারের ছবিকে সামনে রেখে একটি বেদি তৈরি করে শুরু হয় পুজো। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভক্তদের আনাগোনা। পরবর্তীতে তৈরি হয় মন্দির। তৈরি করা হয় মা কালী ও মহাদেবের এই মূর্তি। সেই একই ব্যতিক্রমী রূপে আজও দেবী প্রতিমা রয়েছে মন্দিরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যমগ্রামের এই মহাকাল মন্দির পরিচিতি লাভ করেছে জাগ্রত মন্দির হিসেবে।
মন্দিরের পুরোহিত অর্ঘ্য চক্রবর্তী জানান, এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, কালবৈশাখীর ঝড়ে যে ক্যালেন্ডারটি উড়ে এসেছিল, তাতে মহাদেবের রূপ ছিল অনেকটাই উগ্র। তবে মূর্তি তৈরির সময় সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে মহাদেবের রূপে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। সেই শান্ত রূপের মূর্তিই বর্তমানে মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
কেন এই মন্দিরের নাম মহাকাল! পুরোহিতের কথায়, এখানে মা দক্ষিণাকালী রূপে পূজিত হন। দেবীর রুদ্ররূপের সঙ্গে সম্পর্কিত মহাদেবের নাম মহাকাল ভৈরব। সেই থেকেই মন্দিরের নাম হয়েছে মহাকাল মন্দির। প্রতিদিনই এই মন্দিরে নিয়ম মেনে পুজো হয়। তবে সোমবার ও মঙ্গলবার বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। সোমবার মহাদেবের বার এবং মঙ্গলবার বজরংবলীর দিন হওয়ায় এই দু’দিন মন্দিরে ভক্তদের ভিড় বেশি থাকে। মা কালী ও মহাদেব ছাড়াও এখানে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন মা মনসা ও বজরংবলী। প্রতি অমাবস্যাতেও বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে মধ্যমগ্রামের এই মহাকাল মন্দিরের পরিচিতি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মা কালী ও মহাদেবের এই ব্যতিক্রমী মূর্তি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন। প্রচলিত কাহিনি, স্বপ্নাদেশ এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাসকে ঘিরে আজও ভক্তদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে মধ্যমগ্রামের এই মহাকাল মন্দির।