পুজো মানেই রাত জেগে ঠাকুর দেখা, একের পর এক প্যান্ডেল হপিং, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর ছবি তোলা। ষষ্ঠী থেকে দশমী—কয়েকটা দিন যেন ঘুমের কথা ভুলেই যান অনেকে। তার উপর দিনের বেলা অফিস, বাড়ি ফিরে মেকআপের ধকল। ফলে পুজোর মাঝপথেই আয়নায় চোখের নীচে কালচে দাগ আর ফোলা ভাব বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছবি তুলতে গিয়ে তখন যতই মেকআপ করুন, ডার্ক সার্কেল যেন নজর কেড়েই নেয়।
চোখের নীচে কালো দাগের অন্যতম কারণ হতে পারে ঘুমের অভাব। মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা অন্যান্য কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পুজোর আগে থেকেই চোখের একটু বাড়তি যত্ন নিলে ডার্ক সার্কেলের সমস্যা কিছুটা কমানো যেতে পারে।
পুজোর রাতে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার পর চোখ ক্লান্ত ও ফোলা লাগলে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে। পরিষ্কার কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ জড়িয়ে চোখের চারপাশে আলতো করে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন। সরাসরি বরফ চোখের ত্বকে না দেওয়াই ভাল। বরফ না থাকলে ঠান্ডা জলে ভেজানো পরিষ্কার কাপড়ও ব্যবহার করা যায়।
ঘুমকে অবহেলা করবেন না: পুজোয় রাত জাগা কার্যত রুটিন হয়ে গেলেও প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন। ঘুমের ঘাটতি চোখ-মুখে ক্লান্তির ছাপ আরও স্পষ্ট করে দিতে পারে। তাই প্যান্ডেল হপিংয়ের ফাঁকে অন্তত বিশ্রামের সময়টুকু রাখুন।
টি-ব্যাগও কাজে লাগতে পারে: পুজোর আড্ডায় চা তো থাকবেই! সেই ব্যবহৃত টি-ব্যাগই কাজে লাগাতে পারেন চোখের যত্নে। টি ব্যাগ গরম জলে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিতে পারেন। এরপর চোখ বন্ধ করে ঠান্ডা টি-ব্যাগ দু’টি চোখের উপর প্রায় ১০ মিনিট রাখতে পারেন। চায়ে থাকা ক্যাফিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট চোখের চারপাশের ফোলা ভাব ও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে৷
তবে মনে রাখতে হবে, সব ডার্ক সার্কেলের কারণ এক নয়। কারও ক্ষেত্রে ঘুমের অভাব দায়ী হলেও জিনগত কারণ, অ্যালার্জি, ত্বকের সমস্যা বা অন্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে শুধু ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল। পুজোয় সাজগোজ, নতুন পোশাক আর মেকআপের পাশাপাশি তাই চোখের যত্নটাও থাকুক রুটিনে। তাহলেই প্যান্ডেলের আলোয় আপনার চোখের ক্লান্তি নয়, বরং হাসিটাই বেশি নজর কাড়বে।