মৈনাক রায়: প্রিয় মানুষের চলে যাওয়া মনের গহনে যে শূন্যতা তৈরি করে, সময়ের পলিতে তা চাপা পড়ে যায় । কিন্তু স্মৃতি তাকে জল হাওয়া দিয়ে লালন করে তোলে। প্রবাসে থেকে
আনুষ্ঠানিক উপাচার হয়তো সবসময় সম্ভবপর হয় না, উত্তরাধিকার সূত্রে যা পূর্বজদের থেকে পাওয়া, সেটুকু তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা টুকুই আমার কাছে তর্পণ।
প্রয়াস ইউ.কে (প্রধান কর্মকর্তা: ভাস্কর ভট্টাচার্য, গীতাঞ্জলি ভট্টাচার্য)— গ্রেটার লন্ডন সারে-র দুর্গাপুজোয় ঘরের গন্ধ, বাংলার টান রয়েছে। বিদেশের মাটিতে থেকেও বাঙালির মন যে বারবার ফিরে যায় বাংলায়, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বোধহয় দুর্গাপুজো। ঢাকের আওয়াজ, ধূপের গন্ধ, শিউলির সুবাস, নতুন জামাকাপড় আর আপনজনদের সঙ্গে মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ—সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো প্রবাসী বাঙালির কাছে শুধু একটি উৎসব নয়, যেন এক টুকরো ঘরে ফিরে আসা।
'বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিদের কাছে দুর্গাপুজো ঘরের সেই চেনা অনুভূতিটাই ফিরিয়ে আনে। আমাদের সন্তানদের বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয় এই উৎসব। একই সঙ্গে বৃহত্তর সমাজকেও একসূত্রে বেঁধে দেয়।' এই ভাবনাকেই সামনে রেখে প্রয়াস ইউ.কে. এ বছরও সারে-তে আয়োজন করছে দুর্গাপুজোর। আগামী ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৬, চের্টসি হল, সারে হয়ে উঠবে তিন দিনের এক টুকরো বাংলা—যেখানে থাকবে ঐতিহ্যবাহী পুজোর আচার-অনুষ্ঠান, গান, নাচ এবং নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাঙালির উৎসব যে শুধু চোখে দেখা বা কানে শোনা নয়, স্বাদেও অনুভব করার—এই আয়োজন যেন তারই আরেক প্রকাশ।
এবারের পুজোয় রয়েছে আরও একটি বিশেষ ভাবনা। পুজোর প্রস্তুতির যাবতীয় দায়িত্ব সামলাবেন মহিলারা, আর পুরুষেরা তৈরি করবেন ভোগ। দশমীর দিনেও থাকবে এই ভাবনারই প্রতিফলন। পুরুষেরা প্রথমে করবেন দেবী বরণ, তার পর সেই আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মহিলারাও। প্রচলিত ভূমিকার কিছুটা বাইরে গিয়ে, নারী-পুরুষের অংশগ্রহণকে আরও সমান করে তোলার এই প্রয়াসের মধ্য দিয়ে উৎসবের চিরন্তন আনন্দ ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে প্রয়াস ইউ.কে.। আর এই পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ—যুক্তরাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটি পুজোর মধ্যে প্রয়াস ইউ.কে. অন্যতম, যেখানে কলকাতা থেকে এসে পুরোহিত সম্পূর্ণ পুজোর আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন। ফলে হাজার মাইল দূরে থেকেও পুজোর মন্ত্রোচ্চারণে, আচার-অনুষ্ঠানে যেন ছুঁয়ে থাকা যাবে কলকাতার সেই চেনা পুজোর আবহ।
তবে প্রয়াস ইউ.কে.-র পথচলা শুধু দুর্গাপুজোর উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারও তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বেশ কয়েকটি স্থানীয় দাতব্য সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতায় প্রয়োজনমতো মানুষদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করেছে সংস্থাটি।