লক্ষ্মীপুজো এলেই যে প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খায় তা হল লক্ষ্মী কারা, ঠিক কী কী গুণাগুণ থাকলে লক্ষ্মী হওয়া যায়? ছোটবেলায় শেখানো হত, লক্ষ্মীমেয়েরা শান্ত থাকে, দুষ্টুমি করে না৷ চিৎকার করে না আরও অনেক কিছু করে না লক্ষ্মী মেয়েরা। কিন্তু এখনকার দিনের লক্ষ্মীরা ঠিক কেমন? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে অভিনেত্রী অমৃতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "লক্ষ্মী মেয়ের আমরা একটা টিপিক্যাল সংজ্ঞা জেনে এসেছি যে, ভদ্র নম্র শান্ত, এবং একাহাতে সব দিক সামলায় কিন্তু খুব ঠাণ্ডা মাথায়, নিজের সুবিধার কথা সে কখনও চিন্তাই করবে না। কেবল অন্যের কিসে ভাল হয়, কী করলে অন্যের সুবিধা হয় সেটাই সে ভাববে, করবে৷ এবং চিরাচরিত লক্ষ্মীর ধারণার সঙ্গে সেল্ফ স্যাক্রিফাইসিং থাকবে৷ নিজের খারাপলাগা ভাললাগা নিয়ে সে ভাববে না৷ এটাই হচ্ছে লক্ষ্মী মেয়ে৷ আর এখন যেহেতু মেয়েরা বাইরে কাজে বা পড়তে যাচ্ছে এখন লক্ষ্মী মেয়ে মানেই পার্টি করবে না, রাত করে বাড়ি ফিরবে না, বাইরে গেলেও সময়মতো ফিরে আসবে, দশবার ফোন করে তাঁর খোঁজ করতে হবে না, যে কখনও সংঘাতে জড়াবে না, শুধু মুখ বুজে কাজ করবে, এই হলেই লক্ষ্মী মেয়ে বা লক্ষ্মী বউ৷"
অমৃতার মতে, মেয়েদের মধ্যে লক্ষ্মী মেয়ে লক্ষ্মী বউ হওয়ার একটা বাসনা থাকে৷ কিন্তু যে কখনও কোনও সংঘাতে যায় না, কোনও দ্বন্দ্ব নেই জীবনে, তাঁদেরকে অন্যরা ব্যবহার করার সুযোগও পায়৷ তবে ব্যক্তিগত জীবন নয়, পেশাগত ক্ষেত্রেও লক্ষ্মী মেয়ে হওয়া মানেই নিজের দাবি জানানো যাবে না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অমৃতা৷ অভিনেত্রী বলেন, "ধরা যাক, দশ-বারো বছরের কেরিয়ার৷ কাজ শুরুর পারিশ্রমিক আর আজকের পারিশ্রমিক বদলাবে সেটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু কোনও কাজের জন্য ন্যায্য পারশ্রমিক দাবি করলে, খেটে অর্জন করার পর নিজের ন্যায্য দাবি জানালে লক্ষ্মী মেয়ের ধারণাটা ঘেঁটে যায়৷ তখন বলা হয় ও বাবা ও তো টাকা পয়সার বিষয় খুব কড়া৷ যে লক্ষ্মীদেবীকে ধনদেবী বলা হচ্ছে সেই লক্ষ্মী যখন নিজের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে তখন আমরা তাঁকে লক্ষ্মী মনে করি না৷ এই বৈপরীত্ত আজকের সমাজেও বিদ্যমান৷"