Loading...

শান্তিপুরের রাস উৎসবের সূচনা! দশমীতে বড় গোস্বামী বাড়ির দেবী কাত্যায়নীর বিসর্জনে বিশেষ প্রথা

আজকাল ওয়েবডেস্ক: দশমীর দিনেই দেবী দুর্গার বিসর্জন। চিরাচরিত প্রথা মেনে দশমীর সকালে পুজো সেরে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ির গৃহবধূরা। আর এই বাড়ির দেবী কাত্যায়নীর বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই সূচনা হয় শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের।

জানা যায় ষোড়শ শতাব্দীতে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বাবা রঘুরাম রায়ের রাজত্বকালে রাঢ় বাংলার এই অঞ্চলে অধুনা বাংলাদেশের যশোহরের মথুরের গোস্বামীর পুত্র রাঘবেন্দ্র গোস্বামীর হাত ধরে বড় গোস্বামী বাড়ির সূচনা হয়।

ADVERTISEMENT

প্রায় ৩৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বাড়িতে দেবী দুর্গা ‘কাত্যায়নী’ রূপে পূজিত হয়ে আসছেন। কথিত আছে, প্রায় ৩৫০ বছর আগে মন্দির থেকে উধাও হয়ে যান বাড়ির প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহ রাধারমণ। তাঁকে ফিরে পাওয়ার আশায় বড় গোস্বামী বাড়ির সদস্যরা দেবী কাত্যায়নীর পুজো শুরু করেন। এরপর ফিরে পাওয়া যায় রাধারমণকে। সেই থেকেই এই বাড়িতে দেবী কাত্যায়নীর আরাধনা হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন

বড় গোস্বামী বাড়ির নিজস্ব পুঁথি ও রীতি মেনেই সম্পন্ন হয় পুজো। বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত এই পরিবারের মহিলারাই পুজোর যাবতীয় আয়োজন করেন। দশমীর দিন নিয়ম মেনে দেবীকে নিরঞ্জন করা হয়। দশমীতেই দেবীর প্রাণ বিসর্জনের পর তাঁকে আর গৃহে রাখা যায় না।

এই বিসর্জনকে ঘিরে রয়েছে আরও একটি বিশেষ রীতি। যতক্ষণ না দেবী কাত্যায়নীকে নিরঞ্জন করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাড়ির প্রতিষ্ঠিত দেবতা রাধারমণ জিউর ভোগ রান্না হয় না। অর্থাৎ, দেবীর বিসর্জনের আগে বাড়ির উনুনও জ্বলে না।

আর এই প্রাচীন রীতি মেনেই দশমীর দিন দেবী কাত্যায়নীর বিসর্জন সম্পন্ন হয়। বড় গোস্বামী বাড়ির বিসর্জনের মধ্য দিয়েই সূচনা হয় শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের।দুর্গাপুজোর সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে এভাবেই শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিকে বুকে নিয়ে নতুন উৎসবের পথে এগিয়ে যায় শান্তিপুর।

ADVERTISEMENT