তমালিকা বসু, লন্ডন: সাত সমুদ্র তেরো নদী পার...! হোক না, তাতে কী। দূরত্ব বাড়লে, মুখোমুখি বসা কমে গেলেও, শিকড়ের প্রতি টান কি আর কমে! সারাবছরই মনের ভিতর থাকে ফল্গু ধারা হয়ে, আর আশ্বিন যত এগিয়ে আসে, তত আকুল হয় মন। ঘরের জন্য মনকেমন বাড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে বসে। মনকেমন বাড়ে পুজোর জন্য। আর সেই টানেই প্রায় ২৭ বছর আগে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনের কারণে বাংলা ছেড়ে বিদেশে আসা আটজন চিকিৎসক শুরু করেছিলেন Bengal Cultural & Social Club (BCSC)-এর পথচলা। লক্ষ্য ছিল-বিদেশের মাটিতে বাংলার মতো করেই দুর্গাপুজো উদযাপন করা। দিনে দিনে BCSC-র পুজোয় যুক্ত হয়েছেন আরও বহু প্রবাসী।
সাত সমুদ্র তেরো নদী পার..., লন্ডনে 'ঐতিহ্য' মেনে BCSC-এর পুজো, রইল দিনক্ষণ
ADVERTISEMENT
প্রায় তিন দশক ধরে, বিদেশে দুর্গা বন্দনা, এবারেও তার ব্যতিক্রম নয় অবশ্যই। চলতি বছরে BCSC-র দুর্গাপুজোর মূল ভাবনা ‘ঐতিহ্য’। ভাবনার নাম কেবল ঐতিহ্য নয়, সেই নিয়ম মেনে, এবার সপ্তাহান্তের সুবিধাজনক দিন অর্থাৎ 'কমফোর্টেবল উইকএন্ড' বেছে না নিয়ে BCSC পুজো করছে বছরের পঞ্জিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট তিথিতে। অন্যান্য বছরেও, এই পুজোয় লোক সমাগম হয় চোখে পড়ার মতো। ফি বছর BCSC-র পুজোয় চার-পাঁচ দিন ধরে প্রায় ২০০০ বা তারও বেশি মানুষের উপস্থিত হন। শুধু বাঙালিরাই নন, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষও এই পুজোয় অংশ নেন। সকলের জন্য দুপুরের ও রাতের ভোগ বিনামূল্যে পরিবেশন করা BCSC-র অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ।
আরও পড়ুন
পুজোর পাশাপাশি BCSC-র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও নজর কাড়ে সাগর পাড়ে। বাংলার গান, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুরনো দিনের হারানো সুর, বাংলা নাটক মঞ্চস্থ হয়। তবে কেবল বিদেশের বুকে পুজো করাই একমাত্র লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আবেগের সলতে পাকিয়ে দেওয়া এখন থেকেই, ধীরে ধীরে। পরবর্তী প্রজন্মকে পুজোর সঙ্গে যুক্ত করাও BCSC-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
BCSC-র এবারের দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে নতুন ভেন্যু স্বামীনারায়ণ স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড-এ। পুজো চলবে ১৬ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। সময় যত এগোচ্ছে ব্যস্ততা তত বাড়ছে অরুণ সরকার, মধু সরকার, অরুণাভ দাম, রাকেশ ব্যানার্জি, মৃণাল ভট্টাচার্যদের। বাড়ছে বুক উচ্ছ্বাস আর উদ্বেগের বুক ঢিপঢিপও।
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT