Loading...

'হিন্দু ধর্ম শিখিয়েছে আদ্যাশক্তি সর্বত্র বিরাজমান', দুর্গার কাছে কোন দুর্গতিনাশের আর্জি জানালেন অরিজিতা?

  • সায়নী মুখার্জি

  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৬

তিনি থিয়েটারের একনিষ্ঠ কর্মী৷ তাঁর দরাজ কণ্ঠের পাঠ শুনলেও মুগ্ধ হতে হয়৷ গবেষণা শেষে ছিল কলেজে পড়ানোর ইচ্ছা কিন্তু বিধাতার ইচ্ছায় আচমকা তিনি অভিনয়ে৷ প্রথম অভিনয়েই টলিপাড়া থেকে দর্শক, সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন৷ 'নিম ফুলের মধু' ধারবাহিকের 'বাবুর মা' চরিত্রে অভিনয় তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিতি দেয়৷ তিনি অভিনেত্রী অরিজিতা মুখার্জি। আজকাল ডট ইন-এর পুজোর স্মৃতিকথায় সমাজ, মনন, শিল্প থেকে ঈশ্বর ছুঁয়ে গেলেন সবই৷

অরিজিতার কাছে ছোটবেলার পুজো মানেই শিউলির গন্ধ৷ "আমার ছোটবেলায় চারপাশে শিউলি ছিল৷ উঠোনে শিউলি ঝরে ঝরে পড়ত৷ শিউলির গন্ধ আর আমি শান্তিনিকেকতনে থাকতাম৷ অজয়ের ধারে কাশফুল ফুটত৷ কলকাতার মানুষ ছাতিমের কথা কবলে কিন্তু আমার কাছে ছাতিমের গন্ধ একেবারে আলাদা৷ ছাতিময়লায় উপাসনা হত৷ ছোটবেলায় পুজোর গন্ধ মানে আমার কাছে শিউলি, ভোরবেলা উঠে শিউলি কুড়োচ্ছি৷ ছোটবেলার পুজো ছিল নতুন জামা পাওয়ার আনন্দ৷"

ADVERTISEMENT

বাবার পৈতৃক ভিটে বর্ধমানে ভবানন্দপুর গ্রামের মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজো, প্রায় ২৫০ বছরের পুরনো৷ নিজের গ্রাম, বাড়ির পুজো, পালা করে করা হয়, ক্লাস ফোরে পড়তে পালা এসেছিল৷ তখন গ্রামে একটাই পুজো হত, প্রচুর লোকজন।" তখন আধ্যাত্মিকতা বুঝতেন না তাই কেবল মজা ছিল, অনেক বড় হয়ে মা দুর্গার সঙ্গে আধ্যাত্মিক যোগ অনুভব করেছেন বলে জানান অরিজিতা৷

আরও পড়ুন

পড়াশোনা সূত্রে কলকাতায় এসেছিলেন অরিজিতা৷ পুজোর সময় শহর কলকাতা যখন আলো ঝলমলে হয়ে উঠত তখন ইচ্ছে হত পুজো দেখার কিন্তু বাবা মা অপেক্ষা করে থাকবেন তাই বাড়ি ফিরতেন৷ কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুরা দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ল৷ "আমি কলকাতায় থেকে গেলাম৷ বন্ধুরা আমার পরিবার তাই আমি কলকাতা ছেড়ে যাই না পুজোতে৷ পুজোটা বন্ধুদের রিইউনিয়ন হয়ে উঠল"৷ এখনও তাই একটা দিন পুজোতে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য রাখেন অরিজিতা৷ বাইরে ঘোরার পরিবর্তে এক এক দিন এক এক জায়গায় আড্ডা খাওয়াদাওয়া করতেই পছন্দ করেন অরিজিতা৷

কলকাতায় অরিজিতার আবাসনের কাছেই পুজো বড় মেলা হয়৷ অভিনেত্রী হয়ে গেলেও 'বাবুর মা' রিক্সা নিয়ে এখনও সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী৷ যাতায়াতের পথে মানুষজন চিনতে পারেন ভাললাগে বলেই জানান অরিজিতা৷

যদিও বাবুর মায়ের খ্যাতির মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ করতে চান না অরিজিতা৷ তাঁর থিয়েটার, পাঠ সিরিজ সিরিয়াল সমস্ত ক্ষেত্রে সমস্ত কাজে থাকে ভাল কিছু করার চেষ্টা। তাই নির্দিষ্ট একটা চরিত্রকে বারবার বলা হলে অন্য কাজগুলো কিছুটা ঢেকে যায় বলেই মনে করেন অরিজিতা৷ 'বাবুর মা' তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে, তাই অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অন্যান্য চরিত্রগুলো নিয়ে মানুষ কথা বললে ভাল লাগবে৷

অভিনয়ে আসার কোনও পূর্ব পরিকলনা ছিল না। থিয়েটার এবং পিএইচডি করতে করতে আচমকা জীবনে আসে 'বাবুর মা৷' থিয়েটার করে আজকের দিনে পেট চালানো মুশকিল তাই অন্য চাকরি করতে যাওয়া, চাকরির খোঁজ ছিলই তারই মাঝে অভিনয় করতে চাওয়া মেয়েটার কাছে অভিনয়ের সুযোগ আসে৷

তবে সবকিছুই গোলাপে সাজানো নয়৷ অভিনয় করতে এসে বডিশেমিংয়ের শিকার হন অরিজিতা৷ এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে দীর্ঘ উনিশ দিন আয়না দেখেননি৷ তবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিবাদ করেছেন এবং এখনও যদি শুটিং ফ্লোরে নতুন আসা কোনও মানুষকে বডিশেমিং করা হয় রুখে দাঁড়ান অরিজিতা৷ কাজ বিচারবুদ্ধি বিবেককেই প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেন অরিজিতা৷ তবে চরিত্রের প্রয়োজনে রোগা হতে আপত্তি নেই৷

কলকাতায় কেবল থাকতে ভালবাসেন তাই নয়, কলকাতার বিরিয়ানিও খুব প্রিয় অরিজিতার৷ মাসে একবার বিরিয়ানি খাওয়া চাই-ই চাই৷ অভিনেত্রীর কথায়, রাত তিনটের সময় কেউ বললেও এক চামচ বিরিয়ানি খেয়ে নেব তবে সেটা নির্দিষ্ট কিছু জায়গার৷ মাইনে পেলেও বিরিয়ানি খেয়ে নেন অরিজিতা৷

প্যান্ডেলে দাঁড়িয়ে সকলের সঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া, ভোগ খাওয়া নিয়ে খুব মজা করেন অরিজিতা৷ বাবা চলে যাওয়ার শূন্যতা অপরিসীম৷ পুজোর দিনে বাবা আর বলেন না, 'ভাল লাগছে'৷ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসার মানুষ কমছে৷ সেটার জন্য ফাঁকা লাগে৷

দেবী দুর্গার কাছে বর চাওয়ার সুযোগ থাকলে কী চাইতেন? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে অরিজিতা বলেন, নিজের জন্য যা চাই তা মনেই থাক৷ "মা আমরা খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি৷ যুদ্ধ, ধর্ম নিয়ে মারমারি চলছে৷ আদ্যাশক্তি মহামায়ার কাছে প্রার্থনা পৃথিবীতে যেন শান্তি আসে৷ আমার হিন্দু ধর্ম আমাকে শিখিয়েছে আদ্যাশক্তি মহামায়া জীব জড় সবকিছুতে বিদ্যমান৷ তাই ধর্মে ধর্মে বিভাজন নয়, মানুষে মানুষে বিভাজন নয়৷ ক্ষমতার লড়াই নিপাত যাক, মানবিকতা বিকশিত হোক, এটুকুই চাওয়া৷ এটা কেবল আমার দেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য৷ কারণ ইজরায়েল-গাজার যুদ্ধে যে শিশুগুলো মারা গেল তাদের কোনও দোষ ছিল না৷ তাই এই ক্ষমতার লড়াই বন্ধ হোক৷ মানুষের বিবেক জাগ্রত হোক৷ মনের সব অন্ধকার দূর হোক৷ ভারতবর্ষের বৈচিত্র‍্যের মধ্যে ঐক্য অটুট থাক।"

ADVERTISEMENT