আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে চিরস্থায়ী আসন করে নেওয়া মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে চলেছে বেলজিয়ামের প্রবাসী বাঙালি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তেরো পার্বণ’। এ বছরের দুর্গোৎসবের মূল ভাবনায় থাকছে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির দীর্ঘদিনের আবেগ ও নস্টালজিয়া।
২০২১ সালে কর্মসূত্রে বেলজিয়ামে বসবাসকারী কয়েকজন বাঙালির উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘তেরো পার্বণ’। এ বছর তাদের দুর্গোৎসবের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানী ব্রাসেলসে আয়োজিত এই দুর্গোৎসব ইতিমধ্যেই বেলজিয়ামের তথা ইওরোপের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রতি বছর ব্রাসেলস ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শহর থেকে বহু মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন।
গত বছর পঞ্চম বর্ষপূর্তিতে মূলভাবনায় ‘বিটস এ বছর পাঁচ’ ছিল বাঙালী জীবনে ব্যান্ড মিউজিকের প্রভাব আর তার রেশ জুড়েই ছিল পুজো পরবর্তী বিজয়া সম্মেলনীতে ‘ক্যাকটাস’ ব্যান্ডের পরিবেশন। এই বছর ১৭ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ অক্টোবর বেদমন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। আর থাকবে মহানায়কের জনপ্রিয় কিছু গানে নৃত্য পরিবেশিনার মাধ্যমে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। তাছাড়াও বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে কলকাতা থেকে আগত প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের পরিবেশনা। সঙ্গে থাকছে বাঙালির কিছু চিরকালীন প্রিয় খাবারের মাধ্যমে রসনাতৃপ্তির আয়োজন।

প্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগসূত্র বজায় রাখার লক্ষ্যেই 'তেরো পার্বণ'-এর এই উদ্যোগ। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে এবারের দুর্গোৎসব সেই সাংস্কৃতিক ধারাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে আসবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। আর পুজোর পরেই বিজয়া সম্মিলনী আর দীপাবলি উদযাপনে থাকছে বিশেষ চমক। কলকাতার আমিনিয়া বিরিয়ানির সঙ্গে থাকবে কলকাতার সুপরিচিত সঙ্গীত শিল্পীর সুরমূর্ছনা।