Loading...

মণ্ডপ যখন বন্দে ভারত! বর্ধমানের পুজো থিম নিয়ে গোটা জেলা জুড়ে প্রবল উৎসাহ

  • নিজস্ব সংবাদদাতা

  • Kolkata

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩১

উৎসবের মরশুমে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস নিয়ে নিত্যনতুন উন্মাদনা তো দেখেইছেন, কিন্তু পাড়ার মণ্ডপে ঢোকার জন্য সত্যিকারের ট্রেনে চেপে ভূস্বর্গে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে কখনও? এবার দুর্গাপুজা উপলক্ষে ঠিক তেমনই এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটাতে চলেছে বর্ধমানের অরবিন্দ পল্লীর সুভাষ ক্লাব। বর্ধমান শহরের নাড়িকলোনী এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর এবারের থিম— ‘বাহন বন্দেভারত ভূস্বর্গে মা’।

ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং দর্শকদের একদম অন্যরকম অভিজ্ঞতা দিতে মণ্ডপের বাইরেই বসানো হচ্ছে সত্যিকারের ২০০ মিটারের সুবিশাল রেললাইন। মহালয়ার পরপরই রেললাইন পাতার কাজ শুরু হবে। মণ্ডপ প্রাঙ্গণে থাকছে দুটি বিশেষ স্টেশন। অরবিন্দ পল্লীর মোড় থেকেই ছাড়বে এই বিশেষ ‘বন্দে ভারত’। সবচেয়ে মজার বিষয় হল— এই ট্রেনে চেপে মণ্ডপে পৌঁছাতে দর্শকদের কিন্তু কোনও টিকিট কিনতে হবে না, পরিষেবা এক্কেবারে বিনামূল্যে!

ADVERTISEMENT

অভিজাত ও ঝকঝকে এই বন্দে ভারত ট্রেনে থাকছে একটি ভিআইপি কামরাসহ মোট তিনটি কোচ। দর্শনার্থীদের ট্রেনে তুলে রেকটি সোজা নিয়ে যাবে মূল মণ্ডপে। আর মণ্ডপে পা রাখতেই মিলবে বরফে ঢাকা কাশ্মীরের মনোরম আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দৃশ্য! থিমে আধুনিক প্রযুক্তির চরম চমক থাকলেও দেবী দুর্গার প্রতিমায় কিন্তু বজায় রাখা হচ্ছে নিখাদ সাবেকিয়ানা।

আরও পড়ুন

দেশবিভাগের পর শুরু হওয়া নারী কলোনীর এই পুজোর ইতিহাসও বেশ প্রাচীন ও আকর্ষণীয়। এখানকার প্রতিমার গঠনে রয়েছে এক বিশেষ স্বতন্ত্রতা— দেবী দুর্গার মণ্ডপে কোনো অসুর থাকলেও সিংহ বা মহিষের বাঁধাধরা বিন্যাসে থাকে বৈচিত্র্য, আর কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী থাকেন প্রচলিত কাঠামোর ঠিক উল্টোদিকে! বহু বছর ধরে চলে আসা এই প্রাচীন রীতির পাশাপাশি এখানকার ধুনুচি নাচও দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ।

বিগত কয়েক বছর ধরে থিম ভাবনায় বাজিমাত করা সুভাষ ক্লাব এবার বন্দে ভারত ও কাশ্মীরের মেলবন্ধনে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে বলেই আশা করছেন।

ADVERTISEMENT