Loading...

হ্যালোউইন ভুলে পুজোর গন্ধে মাতোয়ারা কানাডার খুদেরা! কিচেনার-ওয়াটারলুতে জমে উঠেছে প্রবাসের ‘মিনি কলকাতা’

  • নিজস্ব সংবাদদাতা

  • Kolkata

  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১২

দেশ ছেড়ে সাত সমুদ্র তেরো নদী দূরে সুদূর কানাডায় সংসার পাতলেও মাটির টান কি সহজে ভোলা যায়? বিশেষ করে যখন প্রবাসের বুকে বড় হয়ে ওঠে নতুন প্রজন্ম। কানাডার হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর পশ্চিমা সংস্কৃতির ভিড়ে নিজেদের শিকড়, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদেই তিন বছর আগে অন্টারিও প্রদেশের কিচেনার-ওয়াটারলু শহরে একটি ছোট্ট ভাবনা বীজ বুনেছিল।

আজ সেই ভাবনা রূপ নিয়েছে এক বিশাল মহীরুহে। গ্র্যান্ড রিভার কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (GRCA)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই দুর্গোৎসব আজ আর গুটিকয়েক বাঙালির ঘরোয়া পুজোয় সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে আস্ত ‘মিনি ইন্ডিয়া’য়। আর এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা ও প্রাপ্তি হল—এখানকার দ্বিতীয় প্রজন্মের কচিকাঁচাদের কাছে হ্যালোউইন, থ্যাংকসগিভিংয়ের চেয়েও অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও আনন্দের উৎসব এখন এই ‘শারদোৎসব’।

ADVERTISEMENT

কানাডার মাটিতে এই পুজোকে প্রাণবন্ত করতে কোনও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সাহায্য নেওয়া হয়নি। সমস্ত কাজটাই হয়েছে নিখাদ ভালোবাসায় এবং পরিবারের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। কাজ থেকে ছুটি নিয়ে মণ্ডপ সাজানো, ঘর মোছা থেকে শুরু করে ভোগের জোগাড়—সবকিছুতেই হাত লাগিয়েছেন প্রবাসী বাঙালিরা।

আরও পড়ুন

কলকাতার ছোঁয়া: খোদ কলকাতার কুমারটুলি থেকে জাহাজে করে সুদূর কানাডায় মা দুর্গাকে এনে বরণ করার এই আবেগের কোনও তুলনা হয় না।

খাবার ও সুবাস: মণ্ডপে পা রাখলে বোঝাই উপায় নেই এটি কানাডা না কলকাতা! সুবাসিত ধুনোর সুবাসের সাথে বাতাসে ভেসে বেড়ায় তেঁতুল জলের ফুচকা আর ঝাঁঝালো ঝালমুড়ির চেনা গন্ধ।

এই পুজোর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হল এর বহুভাষিক সম্প্রীতি ও সর্বভারতীয় রূপ। এখানে যেমন বাঙালিরা একমনে ধুনুচি নাচে মেতে ওঠেন, তেমনই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে পা মেলান গুজরাতি, মারাঠি, তামিল ও মালয়ালি প্রতিবেশীরাও। ঢাকের বোলের জাদুকরী ছন্দের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিশে যায় গরবা আর ডান্ডিয়ার উচ্ছ্বাস। ভিন প্রদেশের মানুষরাও সমান উৎসাহে অঞ্জলি দেন, পাত পেড়ে ভোগ খান এবং উৎসবের এই আনন্দে মেতে ওঠেন।

শিকড়কে আঁকড়ে ধরে রাখার এই অদম্য জেদ বিদেশের মাটিতে শুধু ঐতিহ্যকেই টিকিয়ে রাখেনি, বরং ভারতের নানা প্রান্তের মানুষকে এক ছাদের তলায় বেঁধে ফেলেছে এক অদ্ভুত মায়ার ডোরে।

ADVERTISEMENT