আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডুয়ার্সের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থান জলপাইগুড়ি জেলার তেলি পাড়ার মা কালুয়া মন্দির। সাবেকি রীতিনীতি, প্রাচীন ইতিহাস এবং স্বতন্ত্র স্থাপত্য শৈলীর কারণে প্রতি বছরই কালী পুজোর সময় বিশেষভাবে নজর কাড়ে এই মন্দির।
কথিত আছে, এক সময় ডাকাত দলের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে গয়েরকাটার সেনগুপ্ত পরিবারের উদ্যোগে পুজোটি পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা ভক্ত ও এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে সর্বজনীন রূপ পেয়েছে।
ADVERTISEMENT
শুধু দীপাবলির অমাবস্যাতেই নয়, বছরের প্রতিটি মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত পুজো দিতে আসেন এই মন্দিরে। তবে দীপাবলির অমাবস্যায় কালী পুজোকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ঢল নামে মন্দির প্রাঙ্গণে।
গয়েরকাটার বাসিন্দা বাসুদেব সেনগুপ্তের কালুয়া কলোনির জমিতে অবস্থিত এই মন্দির। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসুদেবের বাবা প্রয়াত সতীশ সেনগুপ্তের তত্ত্বাবধানে ১৯৫৯ সালে বর্তমান মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও এই স্থানে কালী পুজোর প্রচলন তার বহু আগে থেকেই ছিল।
বাসুদেব সেনগুপ্ত জানান, বাবার কাছে শোনা পারিবারিক জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক সময় ওই স্থানে ডাকাতদের একটি মন্দির ছিল। তাঁদের হাত ধরেই প্রাচীন কালে কালী পুজোর সূচনা হয়েছিল বলে কথিত রয়েছে। পরবর্তীতে সেনগুপ্ত পরিবারের হাত ধরে সেই পুজো নতুনভাবে পরিচালিত হতে থাকে।
এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ এর নেপালি স্থাপত্য শৈলী। জানা যায়, সতীশ সেনগুপ্তের গুরুমা নেপালি হওয়ায় তাঁর নির্দেশিত নকশা অনুসারেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়ে ছিল। মন্দিরে পাথরে খোদাই করা দেবী মূর্তিতে দক্ষিণা কালীর আরাধনা করা হয়। দীপাবলির অমাবস্যার মহা নিশায় তান্ত্রিক বিধি মেনে সম্পন্ন হয় বাৎসরিক বিশেষ পুজো।
সেনগুপ্ত পরিবারের সদস্য সত্যব্রত সেনগুপ্ত জানান, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আধুনিক থিমের মণ্ডপ, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও জাঁকজমকের ভিড়েও এই মন্দিরের পুজো আজও ধরে রেখেছে সাবেকিয়ানা।’
পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে সর্বজনীন উৎসবে উত্তরণ তেলিপাড়ার মা কালুয়া মন্দিরের কালী পুজো যেন ইতিহাস, বিশ্বাস ও লোক সংস্কৃতির এক অনন্য মেল বন্ধন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভক্তদের আস্থা ও অংশ গ্রহণই এই প্রাচীন পুজোর ঐতিহ্যকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে।