Loading...

উল্টোডাঙার কোলাহলের মাঝেই ‘অমূর্ত’ শান্তি, চোখে দেখা যাবে না- তবু অনুভবে ধরা দেবে

আজকাল ওয়েবডেস্ক: উল্টোডাঙা। চারপাশে শুধু ছুটে চলা। গাড়ির হর্ন, ব্যস্ত রাস্তা, মানুষের ভিড়, কাজের তাড়া। আধুনিক জীবনের ইঁদুর দৌড়ে এখানে থামার অবকাশ যেন নেই। সেই চরম কর্মব্যস্ততার মাঝেই এবার দর্শককে এক মুহূর্ত দাঁড় করাতে চাইছে উল্টোডাঙা বিধান সংঘ। এমন এক জগতে নিয়ে যেতে চাইছে, যেখানে চোখের সামনে যা থাকবে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে যা চোখে দেখা যায় না। ৫৮তম বর্ষে পুজোর থিম ‘অমূর্ত’।

জীবনের হিসেব বড় অদ্ভুত। টাকা জমে, বাড়ি তৈরি হয়, সম্পত্তি বাড়ে, সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির কিছুই সঙ্গে যায় না। সঙ্গে থেকে যায় অভিজ্ঞতা। থেকে যায় সম্পর্ক। থেকে যায় ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতা, কৃতজ্ঞতা আর সহানুভূতি। সবচেয়ে বড় কথা, থেকে যায় মানসিক শান্তির অনুভূতি। অথচ এই সম্পদগুলির কোনওটাকেই চোখে দেখা যায় না, হাতে ছোঁয়া যায় না।

ADVERTISEMENT

সেই ‘না-দেখা’ জগতকেই এবার দৃশ্যমান করার কঠিন কাজ নিয়েছেন শিল্পী কৃষাণু পাল। তাঁর শিল্পভাবনায় বিমূর্ততার একটা বিশেষ জায়গা রয়েছে। তাই মণ্ডপের প্রতিটি বিন্যাসে শুধু সাজসজ্জা নয়, লুকিয়ে থাকবে একাধিক ভাবনার স্তর। দৃশ্যমান কোনও প্রতীক হয়তো দর্শককে নিয়ে যাবে অদৃশ্য কোনও অনুভূতির কাছে। আলো-ছায়া, ইলিউশন, আকার, রেখা এবং বিমূর্ত নির্মাণের মধ্য দিয়ে তৈরি হবে এমন এক আবহ, যেখানে দর্শকের চোখের পাশাপাশি কাজ করবে তাঁর কল্পনাও।

আরও পড়ুন

মণ্ডপে ঢুকেই তাই শুধু কী দেখছি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে চলবে না। বরং প্রশ্ন উঠবে যা দেখছি না, সেটাই কি আসলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

পুজো উদ্যোক্তা কৃষাণু পাল বলেন, আমাদের চারপাশে এমন অনেক কিছু রয়েছে, যেগুলো আমরা দেখতে পাই না, কিন্তু সেগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে। সেটা আমাদের অনুভূতি হতে পারে, প্রকৃতি হতে পারে বা আরও অনেক কিছু। এরকম বহু অমূর্ত রূপকে মূর্ত চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের জীবন অনেকটাই প্রভাবিত হয় এই অমূর্ত শক্তিগুলির মাধ্যমে।

আধুনিক মানুষের জীবনের সঙ্গে থিমটির যোগও তাই গভীর। প্রতিদিন আরও বেশি পাওয়ার দৌড়ে মানুষ যখন নিজের অজান্তেই মানসিক শান্তি হারিয়ে ফেলছে, তখন অমূর্ত যেন উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে- সব পেয়েও কি সত্যিই পাওয়া হয়?

দৃশ্যমান সম্পদের পিছনে ছুটতে ছুটতে যে অদৃশ্য সম্পদগুলি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে, মণ্ডপের শিল্পভাষায় সেই কথাই বলা হবে। দর্শকের চোখে ধরা দেবে বিমূর্ততার নানা রূপ। কোথাও হয়তো একটি আকার, কোথাও আলো-ছায়ার খেলা, কোথাও ইলিউশনের ভেতর দিয়ে তৈরি হবে অন্য এক বাস্তবতা। সেই বাস্তবতা কতটা সত্যি আর কতটা কল্পনা- সেটাও নির্ধারণ করবেন দর্শকরাই।

পুজো উদ্যোক্তা কৃষাণু জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো সবসময়ই একটা চমকের বিষয়। মানুষ আসে, তাদের একটা প্রত্যাশা থাকে যে পুজোয় গিয়ে নতুন কিছু দেখবে। সবচেয়ে বড় চমক হল, অমূর্ত একটা বিষয়কে মূর্ত রূপে দেখা। পুরো উপস্থাপনা, ইলিউশন- এগুলোই এবার দর্শকের কাছে চমক হবে।”

ফলে উল্টোডাঙা বিধান সংঘের ‘অমূর্ত’ শুধু একটি পুজোর থিম নয়, ব্যস্ত জীবনের মাঝে কয়েক মুহূর্ত থামারও আহ্বান। মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও হয়তো দর্শকের মাথায় ঘুরবে একটি প্রশ্ন- জীবনের শেষ প্রান্তে সত্যিই বা কী সঙ্গে থাকে?

ADVERTISEMENT