আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি দুর্গোৎসবে অসমের ডিব্রুগড়ের দুটি পুজো মণ্ডপ শিল্পকলা ও ভাবনার অভিনবত্বে গোটা রাজ্যে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি মণ্ডপে যেমন রাজ্যের ভয়াবহ বন্যা ও মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তেমনই অন্যটিতে উদযাপন করা হচ্ছে অসমের দুশো বছরের পুরনো চা সংস্কৃতির ঐতিহ্য।
মাস্টারপাড়া দুর্গোৎসব কমিটি এবছর তাদের পূজার থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে "বন্যার মাঝে আশার আলো"। এই মণ্ডপে মূলত শিবা ও চরাইদেও জেলার বন্যাবিধ্বস্ত ভয়াবহ রূপ নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে কেবল ট্র্যাজেডি নয়, এর পাশাপাশি দুর্যোগের মুখে দাঁড়িয়ে উদ্ধারকারীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইকেও এখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, এই ভাবনার মধ্য দিয়ে তারা এই বিপদের দিনেও মানুষের মনে আশা, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ঐক্যের বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছেন। পূজায় এই অভিনব রূপ দেখতে মণ্ডপে উপচে পড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।
অন্যদিকে, গ্রাহম বাজার দুর্গোৎসব কমিটি চা বাগান থিমে নির্মিত প্যান্ডেল দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পরিবেশবান্ধব বাঁশ এবং প্রাকৃতিক চা পাতা দিয়ে তৈরি এই মণ্ডপে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চা বাগান এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, নানা কৃষ্টি ও ঐতিহ্য।
পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখে উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ প্লাস্টিক-মুক্ত পরিবেশ গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এই মণ্ডপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মনোহরি টি স্টেটের উদ্যোগ- পূজার কদিন ধরে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ৫,০০০ কাপ খাঁটি অসম চা পরিবেশন করা হচ্ছে, যা এখানকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ে চায়ের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পূজা কমিটির সদস্য জিতেন্দ্র শ্রীবাস্তব জানান, সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি এই মণ্ডপটি বিপুল জনসমাগম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে এবং অসম চা-এর দুশো বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।