৫১৭ বছরে জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো, বাঘ বাহনে তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা দেবীর আরাধনা
1/6
শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা আর শিউলির গন্ধে বাংলায় শুরু হয়েছে দেবীপক্ষের আবহ। পুজোর আর বেশি দেরি নেই। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এখন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। এরই মধ্যে প্রাচীন ঐতিহ্য ও নিজস্ব রীতিনীতির টানে ফের সেজে উঠছে জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ি। এ বছর ৫১৭ বছরে পা দিচ্ছে এই রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো।
2/6
বাংলার প্রাচীন দুর্গাপুজোগুলির ইতিহাসে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির পুজোর নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই পুজো আজও একাধিক স্বতন্ত্র রীতি ও আচারের জন্য পরিচিত। এই পুজোর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, এখানে দেবী দুর্গার বাহন সিংহ নয়, বাঘ। ফলে বৈকুণ্ঠপুরের দুর্গাপ্রতিমার রূপ বাংলার প্রচলিত প্রতিমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
ADVERTISEMENT
3/6
শুধু দুর্গা ও তাঁর চার সন্তান নন, বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে দেবীর সঙ্গে পূজিত হন গঙ্গা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, মহামায়া এবং দুই সখী জয়া ও বিজয়া। রূপোর অস্ত্রসজ্জায় সাজানো হয় দেবীকে। দেবীর গায়ের বর্ণও এখানে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ—তপ্ত কাঞ্চনবর্ণ। প্রতিমার এই স্বতন্ত্র রূপ এবং পুজোর বিশেষ আচার দেখতে প্রতি বছরই রাজবাড়িতে ভিড় জমান বহু মানুষ।
4/6
অষ্টমী তিথিতে রাজবাড়িতে পালিত হয় আরও একটি বিশেষ রীতি। রাজবাড়ির অন্দরে অনুষ্ঠিত হয় অর্ধরাত্রির পুজো। অতীতে এই পুজোয় নরবলির প্রচলন ছিল বলে জানা যায়। সেই প্রথা বহু আগেই বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে তার পরিবর্তে চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি মানুষের অবয়ব প্রতীকীভাবে ব্যবহার করা হয় এবং কুশ দিয়ে তা বিদ্ধ করার রীতি পালন করা হয়। এই বিশেষ পুজোয় শুধুমাত্র রাজবাড়ির সদস্যরাই অংশগ্রহণ করতে পারেন।
ADVERTISEMENT
5/6
পুজোর প্রস্তুতিও শুরু হয় বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে। নন্দ উৎসবের সময় কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির প্রক্রিয়া। প্রতি বছর উৎসবের কাদা খেলার মাটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়। সেই সংরক্ষিত মাটিই পরের বছর প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। রাজপুরোহিত শিবু ঘোষালের কথায়, এ বছরও সেই ঐতিহ্য মেনেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কালিকাপুরাণের বিধি অনুসারে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়। এখানকার আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, দুর্গা-সহ অন্যান্য প্রতিমাগুলিকে একটি রথের মধ্যে সাজানো হয়।
6/6
স্বতন্ত্র প্রতিমার রূপ, ব্যতিক্রমী আচার, প্রাচীন নিয়মকানুন এবং পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাস—সব মিলিয়ে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। সময় বদলেছে, বদলেছে পুজোর অনেক আয়োজন, কিন্তু ৫১৭ বছর ধরে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে জলপাইগুড়ির এই রাজবাড়ির শারদোৎসব।
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT