আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার বুকে এক ফালি কয়লাখনি! হ্যাঁ। ঠিকই শুনেছেন। রানীগঞ্জ-মফস্বলের এই জায়গায় এক কালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর খোঁজ পেয়েছিলেন বিশাল এই কয়লাখনি এলাকার।
সেই সময় ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। খোদ দ্বারকানাথের হাত ধরে শুরু হল কয়লা উত্তোলন। তারপর ইতিহাসের পাতায় নদীর জলের মতো প্রবাহমান ধারায় একের পর এক খনি খনন করা হয়েছে আর তোলা হয়েছে কয়লা।
ADVERTISEMENT
পরবর্তীকালে ভারত স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু লাভবান কয়লা যা থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয়, সভ্যতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সেই কয়লা উত্তোলন। আজও বন্ধ হয়নি সেই কয়লা তোলা।
সেই কয়লাখনিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট বসতি। শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে গিয়ে কয়লা খনিতে কত যে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন তার কোনও হিসেব নেই।
কত মানুষ যে দুটো টাকার জন্য কাজ করতে গিয়ে আর ফেরেননি, তার অঙ্ক মনে হয় কলকাতার মতো সভ্য, মেট্রো শহরের মানুষের জানাও নেই।
সেই সব ইতিহাসের টুকরোই এবার উঠে এসেছে ঠাকুরপুকুর এসবি পার্কের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে। এই বছর ৫৬ বছরে পা দিতে চলেছে এই পুজো। কয়লাখনিতে শুধু যে পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করেন তা নয়।
পেটের তাগিদে রানিগঞ্জ শহরের আশপাশের বহু ছোট ছোট জায়গা থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া পরিবারের মহিলারাও কাজ করে চলেছেন শ্রমিক হিসাবে। সেই মাতৃশক্তিকেই মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমা।
পুজো কমিটির সদস্য সঞ্জয় মজুমদার জানান, ‘পুজোর থিম শিল্পী ঠিক করেন। এবারেও শিল্পী রাজু সরকারের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মণ্ডপ এবং প্রতিমার ভাবনা। তবে মণ্ডপের সঙ্গে ইতিহাস জুড়ে থাকলেও সাম্প্রতিককালের কয়লা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কিছু অংশও দেখতে পাওয়া যাবে এই এসবি পার্কের পুজো মণ্ডপে।’