আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৯১তম বর্ষে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দুর্গাপুজোর থিম 'বন্দেমাতরম'। বন্দেমাতরম এর ১৫০ বছর ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে দেশভাগের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে।
বন্দেমাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে এবারের মণ্ডপসজ্জা তৈরি করা হচ্ছে। থিমে দেশাত্মবোধের পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, উদ্বাস্তু মানুষের জীবন এবং ছিন্নমূল মানুষের স্মৃতি তুলে ধরা হবে।
মণ্ডপ তৈরি হয়েছে লালকেল্লার আদলে। তার সামনে রয়েছে ভারতের মানচিত্র। আলো-ছায়ার ব্যবহারে দেশভাগের সময় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ট্রেনে ভারতে আসা মানুষের যাত্রার দৃশ্য দেখানো হবে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঘর বাড়ি নিজেদের সমস্ত কিছু ছেড়ে চলে আসার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দেশভাগের অধ্যায়। ১৯৪৭-এর সেই বিভাজনের সময়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ট্রেনে চেপে ভারতে এসেছিলেন অগণিত মানুষ। ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা সেই মানুষগুলির আশ্রয়ের সন্ধানের ছবি এবার মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । উদ্বাস্তু জীবনের সেই যন্ত্রণা, দেশ ছেড়ে আসার কষ্ট এবং নতুন করে জীবন শুরু করার লড়াইকে থিমের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন শিল্পী ।
এবারে মন্ডপসজ্জা একেবারে সনাতনীভাবে বন্দেমাতরম এর উপস্থাপন। সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতারাম ভাবনা , লালকেল্লা আদলে তৈরি হয়েছে মন্ডপ। তার সামনেই রয়েছে ভারতের ম্যাপ। পুরো মণ্ডপ জুড়ে থাকবে আলোর চমক।
পাশাপাশি দেশভাগ হয়েছিল। দেশভাগের যে যন্ত্রণার ছবি ও এই পূজা মন্ডপের ফুটে উঠবে পাশাপাশি দেশভাগ হয়ে যাওয়ার সময় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ট্রেনে চড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতবর্ষে এসেছিলেন। সেই তাদের সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে গৃহহীন হয়ে এদেশে আশ্রয়ের খোঁজে সেই ছবিও ফুটে উঠবে এবারের সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার্ডের পূজা মন্ডপে থিমের মাধ্যমে।
পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা তথা বিধায়ক সজল ঘোষের কথায়, এবারের পুজোয় দর্শনার্থীদের ভিড়ের সম্ভাবনা প্রবল। তাঁর দাবি, প্রায় পাঁচ বছর পর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোয় কলকাতা পুলিশ কমিশনার এলেন। অতীতে পুজোকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে নানা টানাপোড়েনের প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, অন্য পুজো কমিটিগুলিকে যে অনুদান দেওয়া হত, তা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার নিত না। সেই কারণেই তাঁদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের বিরূপতা তৈরি হয়েছিল। তাঁর আরও অভিযোগ, একসময় প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের প্রায় চার কিলোমিটার ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এবার পুলিশের পক্ষ থেকে সেই ধরনের কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবারই দর্শনার্থীদের জন্য নতুন চমক থাকবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার এ। ১৯৩৬ সালে শুরু হওয়া এই পুজো ইতিমধ্যেই কলকাতার অন্যতম আলোচিত দুর্গোৎসবে পরিণত হয়েছে।
অযোধ্যার রামমন্দির থেকে লাস ভেগাসের ‘স্ফিয়ার’, বদ্রীনাথ মন্দির- বছরের পর বছর নানা নজরকাড়া স্থাপত্য ও ভাবনায় মণ্ডপ সেজেছে এখানে। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আবহে পহেলগাঁও এবং লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে সামরিক অভিযানের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
এবার সেই ধারাবাহিকতায় ইতিহাসের আরও গভীরে যাত্রা। লালকেল্লা, ভারতের মানচিত্র, আলো-ছায়ার আবহ আর দেশভাগের স্মৃতি- সব মিলিয়ে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে ‘বন্দেমাতরম’ এবার শুধু দেখার নয়, অনুভব করারও বিষয়। মাতৃভূমির বন্দনার সঙ্গে যেখানে মিশে থাকবে হারিয়ে যাওয়া ঘরের কান্না। ইতিহাসের গৌরবের সঙ্গে থাকবে ইতিহাসের ক্ষতও।