Loading...

বইয়ের পাতা থেকে মণ্ডপে, পূর্ব পুটিয়ারীর প্রগতি সংঘে এবার ‘গপ্পো আর গপ্পোয়’ ফিরছে সুকুমার রায়ের শৈশব

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাবুরাম সাপুড়ে কি এবার আর বইয়ের পাতায় আটকে থাকবেন? কুমড়ো পটাশ কিংবা হুঁকোমুখো হ্যাংলার সঙ্গে কি পুজোর মণ্ডপেই দেখা হয়ে যাবে? উত্তর মিলবে পূর্ব পুটিয়ারী প্রগতি সংঘের মণ্ডপে।

সেখানে এ বার প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি দর্শকদের জন্য খুলে যাচ্ছে সুকুমার রায়ের আশ্চর্য কল্পনার জগৎ। পুজোর ৭২তম বর্ষে তাঁদের থিম গপ্পো আর গপ্পো। বইয়ের পাতা ছেড়ে মণ্ডপে হাজির হবে আবোল তাবোল এর চরিত্ররা।

ADVERTISEMENT

আর তাঁদের হাত ধরেই একসঙ্গে ফিরবে শৈশব, বাংলা সাহিত্য আর বাঙালির নস্টালজিয়া। সুকুমার রায়ের নাম উচ্চারণ করলেই বাঙালির মনে খুলে যায় এক অদ্ভুত দরজা। সেখানে যুক্তির চেয়ে কল্পনার দাপট বেশি, অসম্ভবের সঙ্গে অনায়াসে বন্ধুত্ব করে উদ্ভট সব চরিত্র।

আরও পড়ুন

শব্দের খেলায়, ছন্দের মজায় আর তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের আড়ালে তিনি তৈরি করেছিলেন এমন এক জগৎ, যা এক শতাব্দী পেরিয়েও পুরনো হয়নি। সেই জগতেরই এবার মণ্ডপায়ন হচ্ছে। শিল্পী সোমনাথ দাসের পরিকল্পনায় পূর্ব পুটিয়ারী প্রগতি সংঘের মণ্ডপে আবোল তাবোলের সেই পরিচিত চরিত্রগুলিকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হচ্ছে।

রং, কাঠামো এবং শিল্পভাবনার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে সুকুমার রায়ের কল্পনার দুনিয়া। আয়োজকদের দাবি, মণ্ডপসজ্জায় পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে থিমের ভাবনার সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাকেও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই আয়োজন নিছক স্মৃতিমেদুরতার গল্প নয়।

সুকুমার রায়ের লেখার হাসির আড়ালে ছিল সমাজকে দেখার তীক্ষ্ণ চোখ। উদ্ভট চরিত্র, অসম্ভব পরিস্থিতি কিংবা নিছক মজার ছলে তিনি তুলে ধরেছেন মানুষের নানা প্রবণতা ও সামাজিক অসঙ্গতি। তাই আবোল তাবোল শুধু শিশুদের হাসির বই নয়, বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ব্যঙ্গ-জগতও।

পূর্ব পুটিয়ারী প্রগতি সংঘের সম্পাদক পীযূষ সাহার কথায়, ‘নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন আবোল তাবোল-এর চরিত্রগুলির সঙ্গে সেভাবে পরিচিত নন। সেই কারণেই পুজোর মণ্ডপকে মাধ্যম করে তাদের সামনে সুকুমার রায়ের সৃষ্টিকে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা। অর্থাৎ, যাঁদের শৈশব কেটেছে আবোল তাবোল পড়ে, তাঁদের জন্য এটা একধরনের ফিরে দেখা। আর যাঁদের কাছে বাবুরাম সাপুড়ে কিংবা কুমড়ো পটাশ এখনও অচেনা, তাঁদের জন্য নতুন করে আবিষ্কার।’

ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যস্ত সময়ে বইয়ের পাতার সঙ্গে ছোটদের দূরত্ব বাড়ছে। সেই সময়েই মণ্ডপের পরিসরে সাহিত্যকে নিয়ে আসার এই ভাবনা যেন অন্যরকম একটি বার্তা। বই পড়ার অভিজ্ঞতা হয়তো বদলেছে, কিন্তু গল্পের প্রতি বাঙালির টান বদলায়নি। সেই টানকেই মণ্ডপসজ্জার ভাষায় ধরার চেষ্টা গপ্পো আর গপ্পো’-য়।

প্রবীণদের কাছে এই মণ্ডপ ফিরে পাওয়ার জায়গা। আর নতুন প্রজন্মের কাছে আবিষ্কারের। এক প্রজন্মের স্মৃতির সঙ্গে অন্য প্রজন্মের কৌতূহলের সেতু তৈরি হবে সুকুমার রায়ের চরিত্রদের হাত ধরে। ৭২ বছরের পুজোয় তাই পূর্ব পুটিয়ারী প্রগতি সংঘের গপ্পো আর গপ্পো শুধু একটি থিম নয়।

বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাওয়া চরিত্রদের মণ্ডপে ফিরিয়ে এনে শৈশবকে নতুন করে ছুঁয়ে দেখার আয়োজন। প্রতিমা দর্শনের শেষে হয়তো মণ্ডপ ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন দর্শকরা। কিন্তু মাথার মধ্যে তখনও ঘুরবে সেই চেনা প্রশ্ন সুকুমার রায়ের সেই আজব দুনিয়ায়, শেষ পর্যন্ত গপ্পোই বা শেষ হয় কোথায়!

ADVERTISEMENT