পুজো আসতে আর একদম হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি! নতুন জামা-জুতো কেনা শেষ, আস্তে আস্তে করে আলোয় সেজে উঠছে শহরের অলিগলি, আর মনে মনে শুরু হয়ে গেছে প্যান্ডেল হপিংয়ের রূপরেখা। দুর্গাপুজো মানেই বন্ধুদের সঙ্গে গভীর রাত অবধি চুটিয়ে আড্ডা, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা, রোল আর কব্জি ডুবিয়ে পেটপুজো। কিন্তু উৎসবের আনন্দ কি আর শরীর খারাপ হলে জমিয়ে উপভোগ করা যায়? টানা কয়েকদিনের অনিয়ম, রাতে জাগা আর ভাজাপোড়া খাওয়ার ধাক্কা সামলাতে আগে থেকেই তৈরি করে নিন নিজের ‘পুজো ফিটনেস রুটিন’।
মাত্র ১৫ দিনের সঠিক পরিকল্পনা আপনাকে দিতে পারে মেদহীন সতেজ শরীর আর উৎসবের দিনগুলোতে দ্বিগুণ শক্তি। কোনও জিম ফ্রিক হতে হবে না কিংবা অলৌকিক ক্র্যাশ ডায়েটের প্রয়োজন নেই; রইল উৎসবের মরশুমে সহজে ফিট থাকার আসল মন্ত্র।
১. থালায় নজর: পেট পুজো হোক, তবে মেদ ছাড়াই!
১৫ দিনে মেদ কমাতে ও ব্লোটিং ভাব দূর করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয় পুষ্টিকর খাবার। খুব কঠিন না হলেও কয়েকটি ছোট পরিবর্তন আনলেই কেল্লাফতে!
চিনি ও প্যাকেটজাত খাবারকে ‘না’ বলুন: শরীরের জল-মেদ (water weight) কমাতে আর মেদ জমা বন্ধ করতে ১৫ দিনের জন্য সব ধরনের মিষ্টি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, প্যাকেটের নোনতা খাবার ও ময়দা পুরোপুরি বাদ দিন।
বেশি করে প্রোটিন ও ফাইবার: ডিমের সাদা অংশ, পনির, চিকেন, অঙ্কুরিত ছোলা ও প্রচুর তাজা শাকসবজি খান। এগুলো পেটে দীর্ঘক্ষণ থাকে, শক্তি দেয় এবং বারবার ঘন-ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমায়।
পর্যাপ্ত জল পান: দিনে অন্তত ৩-৩.৫ লিটার জল খান। জল শুধু শরীর পরিষ্কার ও ডিটক্স করতে সাহায্য করে না, পুজোর কয়েকদিন ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও এর জুরি মেলা ভার।
খাবারের পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ: একবারে বেশি না খেয়ে বারে বারে অল্প পরিমাণ খান। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে ডিনার সেরে ফেলুন।
২. প্রতিদিনের মুভমেন্ট: ঘাম ঝরিয়ে কমান মেদ
শরীরচর্চা মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে পড়ে থাকা নয়। ঘরে বা বাইরে সামান্য কিছু শরীরচর্চাতেই বাজিমাত করতে পারেন।
কার্ডিও : প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে আধ ঘণ্টা থেকে পৌনে এক ঘণ্টা দ্রুত হাঁটুন, দৌড়তে পারেন, স্কিপিং করুন অথবা সাইকেল চালান। এটি দ্রুত ক্যালোরি ঝরাতে সাহায্য করে। পুজোর আগের দু'সপ্তাহে এটা কিন্তু মাস্ট!
কোর ও বডিওয়েট সার্কিট (১৫–২০ মিনিট): টানটান মেদহীন পেট ও ফিট চেহারার জন্য দিনে মাত্র ২০ মিনিট প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চেস, বার্পিজ এবং মাউন্টেন ক্লাইম্বার্সের মতো সহজ, ওয়েট-ফ্রি শরীরচর্চা করুন।
কেনাকাটার মাঝেই শরীরচর্চা: পুজোর মার্কেটিং বা মার্কেটিং প্ল্যানিংয়ের সময়ে গাড়ি বা বাইক না নিয়ে যতটা সম্ভব হেঁটে যাতায়াত করুন। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা বন্ধ করুন। তাতেও কিন্তু মেদ কমবে।
৩. জীবনযাত্রার সহজ নিয়ম: বিশ্রামও যখন ফিটনেসের অন্যতম প্রধান অংশ
পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা নিশ্চিন্তে ঘুমান। ঘুম ভাল হলে পেশি দ্রুত সতেজ হয় এবং মানসিক চাপ কমে, যা মেদ কমাতে অত্যন্ত দরকারি।
ক্র্যাশ ডায়েট নয় একেবারেই: নিজেকে উপোস করিয়ে রোগা হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এতে পুজো শুরু হতেই ক্লান্তি আসবে এবং পুজোর পর দ্বিগুণ গতিতে ওজন বেড়ে যাবে।
তাই এককথায় পুজো ফিটনেসের মূল মন্ত্র - কম মানসিক চাপ, সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা ও পরিমিত খাওয়াদাওয়া এবং অবশ্যই পর্যাপ্ত ঘুম। ব্যস! তাহলেই জমজমাট ও ফিট হবে আপনার পুজো!