আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুধু পুজো নয়, ৭৫ বছরের এক দীর্ঘ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যাত্রা। এই বছর সেই বিশেষ মাইলফলক ছুঁতে চলেছে বরাহনগরের নৈনানপাড়া লেন এবং যোগেন্দ্র বসাক রোডের কর্মী সংঘের দুর্গাপুজো। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এই পুজো এবার পা দিচ্ছে ৭৫তম বছরে।
এবার মাতৃপ্রতিমা ও মণ্ডপ সজ্জার ভাবনা ‘স্বর্ণবাসর’। রূপক অর্থে 'স্বর্ণবাসর' কোনও অলংকৃত বা উজ্জ্বল কক্ষ নয়, এটি সৃষ্টিশীলতা, পারিবারিক সান্নিধ্য এবং মা দুর্গার ধরণীতে আগমনকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক আনন্দময় সোনালি উৎসবের প্রতীক।
বাঙালি সংস্কৃতিতে ‘বাসর’ আনন্দ ও নতুন সূচনার প্রতীক। আর ‘স্বর্ণ’ বা সোনা বিশুদ্ধতা ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সৃষ্টি হচ্ছে এক ঐশ্বরিক সোনালি বাতাবরণ। শিল্পীর মতে, এটি কেবল চোখ ধাঁধানো আলো বা সোনালি রঙের ব্যবহার নয়, বরং মানব মনের অন্ধকার দূর করে সুবর্ণময় আলোয় রাজকীয় ও মায়াবী পরিবেশে দর্শনার্থীদের আলোকিত করার বার্তা।
মৃদু ও উষ্ণ সোনালি আলোর ব্যবহারে মণ্ডপে উদ্ভাসিত হচ্ছে আবহমান বাংলার লোকশিল্প ও উৎসবের মেজাজ। মাতৃ প্রতিমাতেও ‘স্বর্ণবাসর’ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেবী দুর্গা এখানে চিরন্তন শক্তির সাথে এক স্নিগ্ধ, বাৎসল্য ও রাজকীয় রূপে বিরাজমান - বার্তা দেয় বিশ্বশান্তি ও আনন্দের।

কর্মী সংঘের দুর্গাপুজোর আকর্ষণের তালিকায় রয়েছে তারকা উপস্থিতিও। অতীতে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, জয়া প্রদা, মহিমা চৌধুরী এবং রচনা ব্যানার্জির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের উপস্থিতিতে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পেয়েছে আলাদা মাত্রা।
উৎসবের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকেও বরাবর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে কর্মী সংঘ। ক্লাব চত্বরেই রয়েছে একটি স্কুল, যার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা, ওষুধ বিতরণ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজও কর্মী সংঘের সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ৭৫ বছরের এই পুজোর ইতিহাসের সঙ্গে মিশে রয়েছে সমাজের জন্য কাজ করার দীর্ঘ পরম্পরাও।
কর্মী সংঘের কাছে দুর্গাপুজো কখনও শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব হয়ে থাকেনি। বছরের পর বছর ধরে পুজোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর। প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষ এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, আর সেই সূত্রেই পুজো হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের মিলনমেলার অন্যতম জায়গা।