Loading...

ফেলে দেওয়া সংবাদপত্রকে ব্যবহার করে সেজে উঠেছে পুজোমণ্ডপ, ‘কোলাজ’ ভাবনায় কীসের বার্তা বাগুইআটি রেল পুকুর ইউনাইটেড ক্লাবের?

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৭৩ বছরে পা দিল বাগুইআটি রেল পুকুর ইউনাইটেড ক্লাবের দুর্গাপুজো। অভিনব ভাবনায় তৈরি হয়েছে এবারের পুজো মণ্ডপ।

হাজার হাজার কেজি পুনর্ব্যবহৃত খবরের কাগজ দিয়ে সাজানো মণ্ডপের এবারের ভাবনা ‘কোলাজ’। শিল্প, সমাজ, স্মৃতি এবং বদলে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থার নানা দিককে একসঙ্গে তুলে ধরাই এই ভাবনার মূল উদ্দেশ্য।

ADVERTISEMENT

শিল্পী সোমনাথ তামলির ভাবনায় তৈরি হয়েছে এই শিল্পকর্ম। খবরের কাগজের আলাদা আলাদা পাতা, শব্দ, ছবি এবং নানা ধরনের টেক্সচারকে একত্রিত করে তৈরি হয়েছে মণ্ডপের কাঠামো। প্রতিদিনের জীবনের অত্যন্ত পরিচিত একটি উপকরণকে শিল্পের মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

আরও পড়ুন

‘কোলাজ’ ভাবনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে দেবী দুর্গার পৌরাণিক কাহিনিকেও। প্রচলিত পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেবতার সম্মিলিত শক্তি থেকেই দেবী দুর্গার সৃষ্টি।

ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, ইন্দ্র, বরুণ, বায়ু, অগ্নি, যম, কুবের ও সূর্য-সহ একাধিক দেবতা নিজেদের শক্তি ও অস্ত্র দিয়ে দুর্গার পূর্ণাঙ্গ রূপ গড়ে তুলেছিলেন।

অর্থাৎ, আলাদা আলাদা শক্তির সম্মিলিত হয়েই তৈরি হয়েছিল এক শক্তিশালী ও সম্পূর্ণ রূপ। সেই ভাবনাকেই ‘কোলাজ’-এর মাধ্যমে মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে।

আলাদা আলাদা উপাদান একত্রিত হয়ে কীভাবে বৃহত্তর ও অর্থবহ একটি সৃষ্টি তৈরি করতে পারে, সেটাই বাগুইআটি রেলপুকুর ইউনাউটেড ক্লাবের এবারের পুজোর অন্যতম বার্তা।

শুধু পৌরাণিক কাহিনি নয়, বাংলার ও ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা জায়গা পেয়েছেন বাগুইআটির এই পুজোমণ্ডপে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সত্যজিৎ রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দের মতো মনীষীদের অবদানও মণ্ডপের শিল্পকর্মে তুলে ধরা হয়েছে।

তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন অবদানকে একত্রিত করে বাংলা ও ভারতের সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক ঐতিহ্যের আরেকটি ‘কোলাজ’ তৈরি করা হয়েছে।

এবারের মণ্ডপে খবরের কাগজও হয়ে উঠেছে নস্ট্যালজিয়ার অন্যতম উপাদান। এক সময় বিপুল পরিমাণ খবরের কাগজ সাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হত।

সেই পুরনো সংবাদপত্র ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার সংস্কৃতির ছবিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপে। পাশাপাশি, ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে মানুষের খবর পড়া, গ্রহণ এবং ভাগ করে নেওয়ার ধরন কীভাবে বদলে গিয়েছে, সেই পরিবর্তনের দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে।

ক্লাবের সম্পাদক স্নেহাশিস দেবনাথ বলেন, ‘এবারের ‘কোলাজ’ ভাবনার মাধ্যমে সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আমাদের সম্মিলিত স্মৃতির বিভিন্ন অংশকে এক জায়গায় এনে একটি বড় গল্প তৈরি করতে চেয়েছি। যেমন আলাদা আলাদা অংশ একত্রিত হয়ে একটি অর্থবহ কোলাজ তৈরি করে, তেমনই পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী বিভিন্ন দেবতার শক্তি একত্রিত হয়ে মা দুর্গার পূর্ণাঙ্গ রূপ তৈরি করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার কেজি পুনর্ব্যবহৃত খবরের কাগজ ব্যবহার করে আমরা এমন এক সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি, যা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল খবরের কাগজ। ৭৩তম বর্ষে ‘কোলাজ’ আমাদের কাছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের উদ্‌যাপন। প্রত্যেকের ছোট ছোট অবদান একসঙ্গে মিলেই যে আরও বড় এবং স্থায়ী কিছু তৈরি করতে পারে, সেই ভাবনাকেই তুলে ধরতে চেয়েছি।’

সব মিলিয়ে, বাগুইআটি রেল পুকুর ইউনাইটেড ক্লাবের এবারের ‘কোলাজ’ মণ্ডপে শিল্প, পৌরাণিক কাহিনি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক ভাবনাকে একসঙ্গে মেলানো হয়েছে। শুধু চোখধাঁধানো মণ্ডপসজ্জা নয়, দর্শকদের সামনে পুরনো নস্ট্যালজিয়াকেও তুলে ধরেছে এই দুর্গাপুজো।

ADVERTISEMENT