প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাজি দীপাবলির অন্যতম অঙ্গ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালে কতটা পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, মানুষের স্বাস্থ্যের উপর কী প্রভাব পড়ছে এবং অবলা প্রাণীদের কতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়, সেই দিকটাই মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
টালিগঞ্জ ছাত্র সংঘের এবারের থিমে আতসবাজির ইতিহাস থেকে শুরু করে তার উৎপাদন প্রক্রিয়া, বাজি তৈরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জীবনযাপন এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ক্র্যাকারের উত্থান, সবই তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাজি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জীবনসংগ্রামকে।
যাদের অক্লান্ত শ্রমে উৎসবের রাতে আলোকিত হয়ে ওঠে শহর, তাঁদের জীবনের কাহিনিও জায়গা করে নেবে টালিগঞ্জ ছাত্র সংঘের কালীপুজোর মণ্ডপে। এর পাশাপাশি, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের ভয়াবহ প্রভাব এবং বাজির আওয়াজে পশুপাখিদের অসহায় অবস্থার ছবিও তুলে ধরা হবে বিভিন্ন ইনস্টলেশনের মাধ্যমে।
উৎসবের আনন্দ যেন অন্য কোনও প্রাণীর কষ্টের কারণ না হয়ে ওঠে, সেই বার্তাই দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। তবে পরিবেশ সচেতনতার বার্তার পাশাপাশি মণ্ডপে বজায় থাকছে কালীপুজোর চিরাচরিত ধর্মীয় আবহ।
ধর্মীয় ভাবনার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার মেলবন্ধন ঘটিয়েই আয়োজন করা হয়েছে এবারের পুজোর। উদ্যোক্তাদের বার্তা, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে উৎসবের মেতে ওঠা উচিত। এর সঙ্গে সঙ্গে পশুপাখিদের প্রতিও সহমর্মিতা দেখানো উচিত।