Loading...

মাঝরাতে মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে যেতেন দেবী! বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির জয়কালীকে আজও বেঁধে রাখা হয় লোহার বাঁধনে

আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজত্ব নেই, নেই রাজকীয় জৌলুস। সময়ের স্রোতে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে রাজতন্ত্র। কিন্তু কয়েকশো বছরের ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান আর লোকমুখের বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে আজও স্বমহিমায় বিরাজ করছেন জলপাইগুড়ি বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দেবদেবীরা।

সেই ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ রাজবাড়ির জয়কালী। রাজবাড়ির দেবীর পায়ে পরানো থাকে লোহার শিকল বা বেড়ি। এর পিছনে রয়েছে এক রহস্যময় জনশ্রুতি, যা আজও কৌতূহল জুগিয়ে চলেছে ভক্তদের মনে। হাতে আর মাত্র এক সপ্তাহ।

ADVERTISEMENT

আসন্ন কালীপুজোকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজবাড়ির কালী মন্দিরে অধিষ্ঠিত হয়েছেন অষ্টধাতুর তৈরি শতাব্দী প্রাচীন দেবী। লোকমুখে তিনি প্রচলিত জয় কালী বলেই।

আরও পড়ুন

তবে এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ শুধুমাত্র দেবী মূর্তির প্রাচীনত্ব নয়, বরং তাঁকে ঘিরে গায়ে কাঁটা দেওয়া এক লোককথা। কথিত আছে, এক সময় গভীর রাতে রাজবাড়ির কালী মন্দির থেকে এক নারী অবয়ব বেরিয়ে জঙ্গলের পথ ধরে চলে যেতেন ডাকাত কালী মন্দিরের দিকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপরিবারের অন্দরে ছড়িয়ে পড়ে নানা কাহিনি।

বিষয়টি নিয়ে রাজপরিবারের পুরোহিত ও প্রবীণদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। মন্দিরের দেবী যদি এভাবে বাইরে চলে যান, তাহলে তাঁকে আটকানো হবে কীভাবে? শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাস থেকেই দেবী মূর্তির পায়ে পরিয়ে দেওয়া হয় লোহার শিকল। মানবীকে বেঁধে রাখার মতো করেই দেবীকে শিকলে আটকে রাখার এই প্রথা আজও রাজবাড়ির কালীপুজোর অন্যতম চর্চিত বিষয়।

রাজবাড়ির পুরোহিত শিবু ঘোষাল জানান, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে মায়ের পায়ে আগের মতো শিকল পরানো হয় না। তবে লোহার বাঁধনের মাধ্যমে দেবী মূর্তিকে আটকে রাখার প্রথা এখনও বজায় রয়েছে। পুজোর অন্যান্য রীতিনীতিও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। আগের মতোই এবারও নিয়ম মেনে হবে পাঠাবলি। শুধু কালীপুজোতেই নয়, বছরের বিভিন্ন সময়ে মোট চারবার রাজবাড়িতে দেবীর আরাধনা করা হয়।’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈকুণ্ঠপুর রাজপরিবারের রাজকীয় ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি হারিয়ে গেলেও হারিয়ে যায়নি দেবদেবীদের ঘিরে থাকা আচার-অনুষ্ঠান ও পারিবারিক ঐতিহ্য। রাজপরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে প্রাচীন রীতিনীতি। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির জয় কালী শুধুমাত্র একটি দেবী মূর্তি নন।

তাঁকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে জলপাইগুড়ির ইতিহাস, রাজপরিবারের উত্তরাধিকার, লোক মুখে চলে আসা বিশ্বাস এবং কয়েকশো বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। রাজকীয় জৌলুস হারিয়ে গেলেও জয় কালীর মাহাত্ম্য আর তাঁকে ঘিরে থাকা রহস্যের আকর্ষণ আজও অমলিন। কালীপুজোর প্রাক্কালে এই ঐতিহ্যই নতুন করে টানছে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।

ADVERTISEMENT