গ্রুপের নাম আবাহন বে এরিয়া। ক্যালিফোর্নিয়াতে এই বছর প্রথম এই দলের তরফে দুর্গাপুজো শুরু করা হয়েছে। গত বছর পুজোর পর উক্ত এলাকার কয়েকজন বন্ধু মিলে হঠাৎই ঠিক করেন যে তাঁরা কি নিজেরা একটা পুজো করতে পারেন? যখন তাঁদের প্রথম প্ল্যান হয় তখনই তাঁরা হঠাৎ জানতে পারেন যে আমাদের পাশের শহর ফ্রেসনোতে একটা গ্রুপ আছে যারা পুজো করত, তারা তাদের ঠাকুরটা ডোনেট করতে চান। এই সুযোগ কি আর হাতছাড়া করা যায়? আবাহন বে এরিয়া র পুজো উদ্যোক্তারা সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, এবং আমরা ঠাকুরটা নেন। সেই ঠাকুর নিয়েই তাঁদের পুজোর পরিকল্পনা শুরু হয়।
আবাহন বে এরিয়া গ্রুপে প্রথমে চারটে পরিবার যোগ দেন। তারপর আস্তে আস্তে বড় হয় দল। ছটা পরিবার যুক্ত হয়।
ADVERTISEMENT
আবাহন বে এরিয়া পুজোর প্রস্তুতির প্রধান আকর্ষণ ছিল চন্দননগরের লাইট। এই আলো এই দলের একজন বন্ধু কলকাতা থেকে প্লেনে করে নিয়ে আসেন। বারাসত থেকে ঢাকও নিয়ে আসা হয়। তাঁদের এই বছরের পুজোর থিম ছিল সাবেকী সজ্জা। থিম অনুযায়ী ঠাকুরের ব্যাকড্রপ, সাইডের যে দেওয়াল সেগুলো সবই লাল, হলুদ, সাদা কালো রং ব্যবহার করে করা হয়। বিভিন্ন রকমের পাখা, কুলো দিয়ে সাজানো হয় পুজো মণ্ডপ। এই সমস্ত জিনিসই কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
অক্টোবরের ১০ এবং ১১ তারিখ পুজো করা হয়। বে এরিয়াতে বা আমেরিকাতে মোটামুটি শনি-রবিবার দেখেই পুজো হয়। ১০ তারিখে ষষ্ঠী, সপ্তমী আর অষ্টমী পালন করেন তাঁরা। এদিনই তিনটে থেকে কালচারাল অনুষ্ঠান ছিল।এই অনুষ্ঠানে দলের লোকজন তো বটেই, বাইরে থেকেও অনেকে পারফর্ম করতে এসেছিলেন। সেদিন ভোগেরও আয়োজন করা হয়েছিল। ভোগের মধ্যে ছিল খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি, পায়েশ, পাপড়, বেগুনি। শনিবার রাত্রে কালচারাল প্রোগ্রামের পরে মেম্বারদের জন্য লুচি, আলুর দম, ছোলার ডাল, মিষ্টি রাখা হয়েছিল।
রবিবার দিন, অর্থাৎ পুজোর দ্বিতীয় দিনে প্রথমে হয় কুমারী পুজো। তারপরে সন্ধিপুজো হয়। এরপর নবমী পুজো আর সবশেষে দশমী পুজো হয়। রবিবার দিন লাঞ্চের মধ্যে ছিল বাঙালি সাবেকি খাবার। যেমন ভাত, ডাল, আলু ভাজা, শুক্তো, মাছ, মাংস, চাটনি, পাপড়, মিষ্টি। আর রবিবার রাতে ছিল বিরিয়ানি।
দশমী পুজোর পরে নিয়ম মতো ঠাকুর বরণ, সিঁদুরখেলা সবই করেছিলাম। আমাদের নবমী পুজোর পরে ধুনুচি নাচও হয়েছিল।
আবাহন বে এরিয়ার একটা বিজয় সম্মেলনেরও প্ল্যান আছে মেম্বারদের জন্য। কিন্তু হঠাৎ কেন তাঁরা দুর্গাপুজো করার কথা ভাবেন? এই দলের সদস্য তনয় রাহা আজকাল ডট ইনকে বলেন, "প্রত্যেক বাঙালির মনেই যেমন ইচ্ছা থাকে একটা দুর্গাপুজো করার, বিশেষ করে আমরা যাঁরা দেশ থেকে বাইরে থাকি। বে এরিয়াতে অনেক পূজোই হয়, কিন্তু সেরকম ভাবে বলতে আমরা কয়েকজন বন্ধুরা কোনওভাবেই কোনও দুর্গাপূজোর অংশ ছিলাম না। আমরা অন্য বছর পুজোর সময় এদিক ওদিক ঘুরতাম। তাই ২০২৫ সালে পুজোর পরে আমাদের একটা চায়ের আড্ডায় হঠাৎই আলোচনা হয় যে, একটা দুর্গাপুজো করা যায় না কি। ওই আড্ডাটিতেই আমরা হঠাৎ করে খবর পাই পাশের শহরে এক দল তাদের ঠাকুরটা দান করছে। আর এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ঠাকুর পাওয়া। মানে কলকাতা থেকে ঠাকুর আনাটা একটা বিশাল খরচের ব্যাপার। সেটাই যখন সহজে পেয়ে যাই , মনে হয় যে হয়তো ঠাকুর চাইছে যে আমরা এই পুজোটা করি। তারপর আমরা যখন প্রথমে চার পাঁচজন মেম্বার ছিলাম, বুঝি এই কজন মিলে পুজো করা কঠিন। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখলাম যে আমাদের গ্রুপটা বড় হতে শুরু করল। শেষ পর্যন্ত মোট ১৪টি পরিবার মিলে পুজো করলাম।" তাঁর আরও সংযোজন, "আমাদের প্রথম বছর পুজো বলে আমরা ভেবেছিলাম যে জানি না কত লোক আসবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম বহু মানুষ আমাদের পুজো দেখতে এসেছিলেন।"