Loading...

মা কালীর ভোগে ল্যাটা মাছ পোড়া! রামপ্রসাদকে ঘিরে অলৌকিক কাহিনি, ত্রিবেনীর শতাব্দী প্রাচীন 'ডাকাত কালী'

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডাকাতদের আরাধ্যা দেবী, সাধক রামপ্রসাদের অলৌকিক অভিজ্ঞতা আর শতাব্দীর পুরোনো লোককথা- সব মিলেমিশে একাকার হুগলির ত্রিবেণীর ডাকাত কালীবাড়িতে।

বহু বছর আগে মগড়া ও ত্রিবেণী সংলগ্ন অঞ্চলটি ছিল গভীর জঙ্গলে ঢাকা। জলপথের যাতায়াতে মূল ভরসা ছিল গঙ্গা। জানা গিয়েছে, এই বনাঞ্চলেই আস্তানা গেড়েছিল সর্দার বিধু ঘোষ ও রঘু ঘোষের প্রায় ৪০ জনের এক ডাকাত দল।

ADVERTISEMENT

ডুমুরদহ ও আকনা এলাকা থেকে আসা ডাকাতদের নিয়ে গঠিত এই দল এলাকা কাঁপিয়ে বেড়াত। রনপায়ে চড়ে তারা মেতে উঠত লাঠি ও বল্লম খেলায়। ব্রিটিশদের অনুগত ধনীদের বাড়িতে চিঠি পাঠিয়ে ডাকাতি করা আর লুটের মাল গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়াই ছিল তাদের দস্তুর। তবে প্রতিটি ডাকাতির আগে মা কালীকে নরবলি দেওয়ার রীতি ছিল তাদের।

আরও পড়ুন

এই মন্দিরকে কেন্দ্র করেই ঘটেছিল এক রোমাঞ্চকর ঘটনা। একবার এই গভীর জঙ্গল পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাধক রামপ্রসাদ সেন। বলি দেওয়ার জন্য কাউকে না পেয়ে ডাকাত দলের লেঠেলরা তাঁকেই ধরে আনে। বলিকাঠে হাঁড়ি কাঠ প্রস্তুত, ঠিক সেই মুহূর্তে রামপ্রসাদ সুর তুলে গান ধরেন- "তিলেক দাঁড়া ওরে সমন বদন ভরে মাকে ডাকি, বিপদকালে ব্রহ্মময়ী আসেন কিনা আসেন দেখি।" বলির খড়গ তোলার পর ডাকাতরা দেখে বলিকাঠে সাক্ষাৎ মা কালী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অলৌকিক এই দর্শনে ভয়ে অস্ত্র ফেলে সাধকের পায়ে লুটিয়ে পড়ে ডাকাতদল এবং সসম্মানে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

কালক্রমে জঙ্গল কেটে লোকালয় গড়ে উঠলেও ঐতিহ্যে ভাঁটা পড়েনি। মন্দিরের বর্তমান সেবাইত সুমন চক্রবর্তী জানান, প্রাচীন রীতি মেনে আজও মায়ের ভোগে দেওয়া হয় ল্যাটা মাছ পোড়া। আগে মন্দিরের পুকুর থেকে সেই মাছ ধরা হলেও এখন বাজার থেকেই কিনতে হয়। নরবলির লিখিত কোনও ঐতিহাসিক তথ্য না মিললেও, কিছুদিন আগে মন্দির সংস্কারের সময় মাটি খুঁড়ে মানুষের কঙ্কাল মেলে। এমনকী বটগাছের গোড়াতেও একসময় মানুষের খুলি পাওয়া যেত বলে জানান স্থানীয় পুরোহিত।

সারা বছর ভক্তদের আনাগোনা থাকলেও কালীপুজোয় ত্রিবেণীর এই মন্দিরে দেখা যায় বিশেষ উন্মাদনা। মাঘ মাসের প্রতিষ্ঠা উৎসব ও অন্নকূট কিংবা বৈশাখ থেকে চড়ক পর্যন্ত চলা বিশেষ পুজোতেও জমে ওঠে ভক্তের ভিড়। দীপান্বিতা অমাবস্যায় নিশীথ রাতে মশাল জ্বেলে চলে হোমযজ্ঞ। ভক্তদের বিশ্বাস, ডাকাত কালীর চরণে মনস্কামনা জানালে তা বিফল হয় না।

ADVERTISEMENT