আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাঁশের কাঠামোয় জড়িয়ে আছে পুজোর শিকড়, আর তারই বুনোটে ধরা পড়ছে আধুনিক শিল্পের ছোঁয়া। একদিকে সাবেকিয়ানার আভিজাত্য, অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া দুর্গাপুজোর নতুন রূপ। অতীত আর বর্তমানকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে এক মণ্ডপেই পুজোর বিবর্তনের গল্প শোনাতে প্রস্তুত রাজেন্দ্রলাল স্ট্রিট সাধারণ দুর্গোৎসব। ৮৩তম বর্ষে তাদের থিম ‘বুনোট’—যেখানে ঐতিহ্যের সুতোয় গাঁথা হচ্ছে আধুনিকতার আখ্যান।
বদলের বাংলায় বদলেছে পুজোর ধরনও। একসময় পুজো মানেই ছিল বাঁশ, কাপড়, মাটি আর শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা সাবেকি মণ্ডপ। সময়ের সঙ্গে সেই মণ্ডপেই জায়গা করে নিয়েছে নানা আধুনিক উপকরণ, নতুন ভাবনা এবং চোখধাঁধানো শিল্পকলা। কিন্তু এই বদলের পথে কতটা পথ পেরিয়ে এসেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব? আদি পুজোর সঙ্গে আজকের পুজোর ফারাকই বা কোথায়? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই রাজেন্দ্রলাল স্ট্রিটের মণ্ডপে এবার এক সুতোয় বাঁধা হচ্ছে পুজোর একাল-সেকাল।
‘বুনোট’ শুধুমাত্র একটি থিম নয়, বরং শিকড়ের সঙ্গে বর্তমানের সম্পর্ক খুঁজে দেখার এক শৈল্পিক প্রচেষ্টা। যে বাঁশ একসময় মণ্ডপ তৈরির অবিচ্ছেদ্য উপকরণ ছিল, আজও তার গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। সময় বদলেছে, বদলেছে নির্মাণশৈলী। কিন্তু পুজোর ভিত গড়ে দেওয়া সেই বাঁশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এবারের ভাবনা। মণ্ডপের পরতে পরতে ফুটে উঠবে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সংযোগ।
এই মণ্ডপের অন্যতম আকর্ষণ প্রায় ২৫ ফুট উঁচু মাতৃপ্রতিমা। প্রতিমার বিশালত্বের পাশাপাশি দর্শকদের জন্য থাকছে পুজোর আদি বৃত্তান্তের পরিচয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক শিল্পভাবনা। পুরনো দিনের পুজোর স্মৃতি থেকে সমকালীন মণ্ডপসজ্জার বৈচিত্র্য—সব মিলিয়ে এক মণ্ডপেই ধরা দেবে দুর্গাপুজোর নানা রূপ। যেন একসঙ্গে দেখা মিলবে ১০০টি পুজোর বুনোটের, যেখানে প্রতিটি পরত আলাদা গল্প বলবে।
বড় বাজেটের পুজো, নামী ব্র্যান্ডের জৌলুস আর চোখধাঁধানো চমকের ভিড়ে অনেক সময় আড়ালে থেকে যায় পুজোর নিজস্ব ইতিহাস। রাজেন্দ্রলাল স্ট্রিট সাধারণ দুর্গোৎসব এবার সেই আড়াল সরিয়ে ফিরতে চাইছে শিকড়ের কাছে। এখানে অতীতকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার কথা নেই, আবার আধুনিকতাকে অস্বীকার করারও প্রশ্ন নেই। বরং দুই সময়ের শিল্পভাবনাকে পাশাপাশি রেখে বোঝানোর চেষ্টা—বদলই পুজোর একমাত্র পরিচয় নয়, ঐতিহ্যও তার সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৮৩ বছরের পথচলায় রাজেন্দ্রলাল স্ট্রিট সাধারণ দুর্গোৎসব এবার তাই শুধু মণ্ডপ সাজাচ্ছে না, বুনছে সময়ের গল্প। সেই গল্পে পুরনো দিনের আবেগের সঙ্গে মিলছে আজকের শিল্পচেতনা। আদি ও নব্যের এই মেলবন্ধন কতটা মুগ্ধ করে দর্শকদের, এখন সেদিকেই নজর। ‘বুনোট’-এর প্রতিটি সুতোয় যদি ধরা পড়ে বাংলার পুজোর বদলে যাওয়ার ইতিহাস, তবে এই মণ্ডপ হয়ে উঠতে পারে উৎসবের ভিড়ে শিকড় খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য ঠিকানা।