আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দির। কালীপুজোকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বরে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। রবিবার দীপান্বিতা অমাবস্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে দক্ষিণেশ্বরের ১৭২তম কালীপুজো। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের সমাগম।
দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে মন্দির চত্বরকে পরিচ্ছন্ন ও শব্দদূষণমুক্ত রাখতে একাধিক নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। মন্দিরের ট্রাস্টির চেয়ারম্যান কুশল চৌধুরী জানান, ‘ভোর পাঁচটা থেকেই ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বান চলে যাওয়ার পর শুরু হবে মূল নিশিপুজোর প্রস্তুতি। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের নির্দেশ ও প্রচলিত রীতি মেনেই সম্পন্ন হবে পুজো।’
এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্রী রামকৃষ্ণদেবের বিশেষ নির্দেশ। তাঁরই অনুমতিতে প্রচলিত রীতির পরিবর্তে কারণের বদলে নারকেলের জল ব্যবহার করে স্নান করিয়ে পুজো করার প্রথা চালু হয়। সেই ঐতিহ্য আজও বজায় রয়েছে দক্ষিণেশ্বরে। চারটি প্রহরে সম্পন্ন হবে পুজো।
সম্পূর্ণ পুজো হবে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে। তবে ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সংস্কৃত মন্ত্র ও পুজোর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের বাংলা অনুবাদ ধারাভাষ্যের মাধ্যমে মন্দির চত্বরে প্রচার করা হবে। পুজো শেষে হবে মহাহোম। তার পর অঞ্জলি ও ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পুজো। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মা ভবতারিণীর মন্দিরে বলি প্রথা নিষিদ্ধ।
নারকেল ফাটিয়ে, সেই নারকেলের জল দেওয়া হয় মাকে। কালীপুজোর দিন প্রতি বছরের মতোই মা সেজে ওঠেন বেনারসী শাড়ি ও সোনার অলঙ্কারে। মায়ের অন্নভোগে থাকে ঘি-ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, পাঁচ রকমের তরকারি, পাঁচ রকমের মাছ। সঙ্গে ভোগে থাকে চাটনি-পায়েস এবং পাঁচ রকমের মিষ্টি। পুজো উপলক্ষে নিরাপত্তা ও পরিবেশের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
মন্দির চত্বরে শব্দবাজি ও প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। যাতে পুজো দিতে এসে কোনওরকম সমস্যায় পড়তে না হয় দর্শনার্থীদের, সেই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
কুশল চৌধুরী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণেশ্বরকে মহাশক্তিপীঠ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের হারিয়ে যাওয়া মন্দিরগুলির পুনরুদ্ধারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী একটি কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন।’ এই উদ্যোগে তাঁরাও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
দক্ষিণেশ্বরে প্রতিদিনই বহু দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। তাঁদের অনেকেরই ইচ্ছা, শুধু মন্দির দর্শন নয়, রাতেও মন্দির চত্বরে থেকে ভোরের মঙ্গল আরতি থেকে রাতের আরতি পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় আচার প্রত্যক্ষ করা। সেই ভাবনার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে একটি অতিথিশালা। খুব শীঘ্রই সেটির উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বাইরে থেকে আসা ভক্তরা দক্ষিণেশ্বরে রাত্রিবাসের সুযোগ পাবেন।