Loading...

একচালার বদলে পাঁচচলার মূর্তির নেপথ্যে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড, জড়িয়ে আছেন নেতাজিও! জানেন কি সেই কাহিনি?

নবপত্রিকা স্নান দিয়ে দুর্গাপুজোর মূল পুজোবিধির নিয়ম, আচার শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ বারোয়ারি পুজোগুলোতেই একচালার বদলে পাঁচ চালার ঠাকুর দেখা যায়। কিন্তু জানেন কি কীভাবে এই এক চালার ঠাকুর থেকে পাঁচ চালার ঠাকুর তৈরি হল? কীভাবে এই ট্রেন্ড এল?

সালটা ১৯৩৮। জায়গায় কুমোরটুলি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের পুজো মণ্ডপ। সময়, পঞ্চমী। হঠাৎই সেদিন সন্ধ্যায় বিধ্বংসী আগুন লাগল পুজো মণ্ডপে। মণ্ডপ তো পুড়ে ছাই হলই, পুড়ল দেবী মূর্তিও। কিন্তু এদিকে যে পরদিন থেকেই পুজো শুরু। এবার? কুমোরটুলি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর কাছেই পুজোর উদ্যোক্তারা ছুটে যান।

ADVERTISEMENT

সেই সময় নেতাজি যান কুমোরটুলির জনপ্রিয় মৃৎশিল্পী গোপেশ্বর পালের কাছে। তাঁকে গিয়ে অনুরোধ করেন এক রাতের মধ্যেই মূর্তি তৈরি করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বললেই হল নাকি? অত বড় মূর্তি এক রাতে কীভাবে হবে? সেই সময় তাঁরা দু'জন বসেন আলোচনায়। আর সেখান থেকেই উঠে এল অদ্ভুত পন্থা, যা বদলে দেয় চিরাচরিত এক চালার ঠাকুরের রূপ।

আরও পড়ুন

গোপেশ্বর পাল এবং সুভাষ চন্দ্র বসু মিলে স্থির করেন মোট পাঁচজন শিল্পী, পাঁচটি মূর্তি গড়বেন। আর সবটাই হবে গোপেশ্বর পালের তত্ত্বাবধানে। শুরু হল কাজ। গোপেশ্বর পাল নিজে বানালেন দেবী দুর্গার মূর্তি। বাকি ৪ শিল্পী গড়লেন লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক এবং সরস্বতীর মূর্তি।

ষষ্ঠীর সকালের মধ্যে তৈরি হয়ে যায় পাঁচ চালার মূর্তি। তবে সাবেকি একচালার মূর্তি থেকে পাঁচ চালার মূর্তি দেখে পুরোহিতরা প্রথমে পুজো করতে চাননি। যদিও অনেক বোঝানোর পর তাঁরা রাজি হন।

এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩৯ সালে গোপেশ্বর পাল এবং নেতাজির হাত ধরেই শুরু হয় থিম পুজো, জায়গা সেই কুমোরটুলি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের পুজো মণ্ডপ। সেই বছর দেবীর গায়ে উঠেছিল বাঘের ছাল উঠেছিল।

ফলে, ১৯৩৮ সালে বাঙালির দুর্গাপুজোয় যে দারুণ বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছেন নেতাজি এবং গোপেশ্বর পাল সেটা বলাই যায়। আর সেই ধারা এখনও অব্যাহত।

ADVERTISEMENT