Loading...

পাহাড় মানেই দার্জিলিং! এবার পুজোয় ঘুরে আসুন দক্ষিণের ভারতে চার ‘হিল স্টেশন’

  • নিজস্ব সংবাদদাতা

  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১৫

বাঙালির কাছে এখনও পাহাড় বলতেই দার্জিলিংয়ের একটা অন্যরকম আবেগ। সৌন্দর্য্যের দিকে শৈল শহরকে টেক্কা দেওয়া মুশকিল। কিন্তু দক্ষিণ ভারতে এমন চার শহর আছে যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে আপনারও। পাহাড় মানেই হিমালয়ের ধারণ থেকে বেরিয়ে ঘুরে আসুন দক্ষিণ পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালা। রূপে তা কোনও অংশেই কম নয় হিমালয়ের থেকে।

চিকমাগালুর

ADVERTISEMENT

কফি ভালবাসেন, তাহলে এই শহরে একবার ঘুরে যেতেই হবে। কর্ণাটকের একটি পাহাড়ি অঞ্চল। বেঙ্গালুরু থেকে চিকমাগালুরের দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার। সড়কপথে যেতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। ম্যাঙ্গালোর বিমানবন্দর হয়ে উড়ানপথে দেশের যে কোনও বড় শহর থেকে আসতে পারেন। চিকমাগালুরে রেলস্টেশনও রয়েছে। থাকা খুব খরচের নয় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে একাধিক হোমস্টে থেকে রিসর্ট পেয়ে যাবেন। তবে কফি বাগানের মধ্যে একেবারে জঙ্গলের কাছাকাছি থাকলে জায়গা বিশেষে খরচ বাড়বে। এখানেই রয়েছে মুল্লায়নগিরি শৃঙ্গ। হেঁটেই সেখানে চড়া যায়। পাহাড়ের মাথা থেকে দেখে সবুজের বাগিচা তার মাঝেই ছোট ছোট জনপদ। বাবা বুদানগিরি চিকমাগালুরের আর একটি দর্শনীয় স্থান। জায়গাটি সবুজ ঘাসের গালিচায় ঢাকা। এই স্থানও বেশ মনোরম। তবে পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ি ভাঙতে হবে। পাহাড় শুধু নয়, রয়েছে জলাশয়। ঘুরে নিতে পারেন শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হীরেকোলালে হ্রদও।

আরও পড়ুন

কুর্গ

বর্তমান সময় কর্ণাটকের এই পাহাড়ি অঞ্চলটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে নেপথ্য বলিউড অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা। তাঁর বাড়ি সেখানে। তাঁর কথায় বার বার উঠে এসেছে সেই পাহাড়ি অঞ্চলের কথা। পশ্চিমঘাট পর্বতের কোলে অবস্থিত এই শৈল শহরকে ভারতের স্কটল্যান্ড বলা হয়। চারপাশে রডডেনড্রনের ঘন জঙ্গল কফি ও মশলার বাগান। এছাড়াও রয়েছে জলপ্রপাত, হিন্দু মন্দির। তবে কুর্গ বৃষ্টির সময় যেন অপরূপা সুন্দরী হয়ে ওঠে।র্গের অরণ্য একাধিক বিরল প্রজাতির পশুপাখি দেখতে পাওয়া যায়। কুর্গে একাধিক রিসর্ট রয়েছে যেগুলো থাকার খরচ শুরু প্রায় ৩ হাজার টাকা থেকে। কুর্গে মশলা ছাড়াও ঘরে ঘরে তৈরি হয় চকলেট ও ওয়াইন।

কুন্নুর

তামিলনাড়ুর নীলগিরি পাহাড়ে অবস্থিত কুন্নুর যেন প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এক শান্ত ঠিকানা। সবুজে মোড়া পাহাড়, কুয়াশায় ঢাকা উপত্যকা, বিস্তীর্ণ চা-বাগান আর মনোরম ঠান্ডা আবহাওয়া—সব মিলিয়ে শহরের ব্যস্ততা থেকে কয়েক দিনের জন্য দূরে সরে যেতে আদর্শ এই পাহাড়ি শহর।

কুন্নুরে ভিড় তুলনামূলক কম। কটা দিন নিরিবিলিতে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এটি হতে পারে চমৎকার গন্তব্য। প্রকৃতিপ্রেমী থেকে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী কিংবা নিছক বিশ্রাম নিতে চাওয়া পর্যটক—সকলের জন্যই কুন্নুরে রয়েছে আলাদা আকর্ষণ।

কী কী দেখবেন?

সিমস পার্ক:

কুন্নুরের অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ সিমস পার্ক। এই সুন্দর বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে ১,০০০-এরও বেশি প্রজাতির গাছপালা। নানা ধরনের ফুল, গাছ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় করবে।

ল্যাম্বস রক:

পাহাড়ের কোলে দাঁড়িয়ে বিস্তীর্ণ উপত্যকার সৌন্দর্য্য উপোভোগ করতে চাইলে ল্যাম্বস রক অবশ্যই তালিকায় রাখুন। ছবি তোলার জন্যও এটি অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা।

ডলফিনস নোজ:

কুন্নুরের অন্যতম দর্শনীয় ভিউপয়েন্ট ডলফিনস নোজ। এখান থেকে নীলগিরির পাহাড়, উপত্যকা এবং আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।

ADVERTISEMENT