Loading...

পুজোর দিনে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি? রইল ঝড়-জলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঠাকুর দেখার দুর্দান্ত গাইডলাইন

  • নিজস্ব সংবাদদাতা

  • Kolkata

  • ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৫

পুজো মানেই তো আকাশে পেঁজা তুলো মেঘের রোদ্দুর, কিন্তু সেই রোদ্দুরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টির ফোঁটা যদি আপনার আনন্দ মাটি করতে আসে,তাহলে? না, ভাববেন না। কারণ রোমাঞ্চের আসল স্বাদ তো অনিশ্চয়তাতেই লুকিয়ে থাকে। বৃষ্টির এই ভ্রূকুটি আর মেঘের গর্জন কি বাঙালির প্রাণের দুর্গোৎসবের উল্লাস একটুও ম্লান করতে পারে? কক্ষনো না! বরং বৃষ্টির ছাঁট গায়ে মেখে মণ্ডপে ঢোকার রোমাঞ্চই আলাদা। একটু বুদ্ধি করে আগে থেকেই সাজিয়ে নিন আপনার পুজোর নিখুঁত প্ল্যানিং। রইল বৃষ্টির দিনেও আপনার পুজো পরিক্রমাকে একদম জমজমাট ও টেনশন-মুক্ত রাখার দুর্দান্ত সব টিপস।

১. পোশাক ও সাজগোজ

ADVERTISEMENT

হালকা ও জলদি শুকোয় এমন পোশাক: বৃষ্টির দিনে ভারী সিল্ক বা ভারী সুতির পোশাক একদম এড়িয়ে চলুন। তার বদলে সিন্থেটিক, জর্জেট বা হালকা সুতির পোশাক বেছে নিন, যা ভিজলেও দ্রুত শুকিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

সঠিক জুতো নির্বাচন: এই সময়ে হিল বা দামি চামড়ার জুতো বাড়িতেই তোলা থাক। আরামদায়ক ওয়াটারপ্রুফ জুতো, স্লিপার বা ফ্লিপ-ফ্লপ পরে নিন, যাতে জল-কাদায় রাস্তাঘাট মাড়াতে কোনো সমস্যা না হয়।

ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ: ভারী মেকআপের মোহ ত্যাগ করুন। হালকা ও ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করুন, যাতে বৃষ্টিতে ভিজে সাজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনো ভয় না থাকে।

২. প্রয়োজনীয় কিট

ছাতা বা রেইনকোট: সবসময় ব্যাগে একটি ফোল্ডিং ছাতা রাখুন। ভিড় প্যান্ডেলে ছাতা সামলানো কঠিন হলে একটা স্টাইলিশ রেইনকোট গায়ে চাপিয়ে নিতে পারেন।

জিপলক ব্যাগ: আপনার দামি স্মার্টফোন, মানিব্যাগ এবং গাড়ির চাবি সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি ওয়াটারপ্রুফ জিপলক ব্যাগ বা প্লাস্টিক পাউচ সঙ্গে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

পাওয়ার ব্যাংক: বৃষ্টিতে রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়লে বা ক্যাব বুক করার জরুরি মুহূর্তে ফোনের ব্যাটারি ডাউন হলে চলবে না। তাই একটি ফুল চার্জড পাওয়ার ব্যাংক সবসময় ব্যাগে রাখুন।

৩. যাতায়াত ও পরিকল্পনা

ইনডোর এবং বড় মণ্ডপ আগে দেখুন: যে সমস্ত প্যান্ডেলে ঢোকার বা লাইন দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ঢাকা, বৃষ্টির সময় সেই বড় মণ্ডপগুলো আগে ঘুরে নিন। খোলা মেলা বা পার্কের পুজো বৃষ্টি থামলে দেখার পরিকল্পনা রাখুন।

ক্যাব ও গণ পরিবহনের ওপর ভরসা: বৃষ্টির দিনে বাইক বা স্কুটারে প্যান্ডেল হপিং বেশ ঝক্কির হতে পারে। তাই মেট্রো, লোকাল ট্রেন বা ক্যাব ব্যবহার করাই সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে।

ভিড় এড়াতে সঠিক টাইমিং: সাধারণত বৃষ্টির পর বা সন্ধ্যার দিকে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় হয়। একটু অন্যরকম রোমাঞ্চ চাইলে ভোরের দিকে বা মাঝরাতে বেরোন প্যান্ডেল-অভিযান সারতে। এই সময়ে বৃষ্টি থাকলেও ভিড় কম থাকে এবং শান্তিতে প্রতিমা দর্শনও করা যায়।

৪. খাওয়া-দাওয়া ও সতর্কতা

রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলুন: এই মরসুমে পেটের গোলমাল এড়াতে রাস্তার খোলা খাবার বা কাটা ফল খাওয়া থেকে একেবারে বিরত থাকুন। ভাল রেস্তোরাঁ বা চেনা দোকান থেকে গরম গরম খাবার খান।

শুকনো খাবার ও জল: ব্যাগে সবসময় জলের বোতল এবং কিছু শুকনো খাবার (যেমন বিস্কুট, ড্রাই ফ্রুটস) রাখুন। রেঁস্তোরার ভিড়, হঠাৎ বৃষ্টি বা ট্রাফিকের কারণে কোথাও আটকে পড়ে ভীষণ খিদে পেয়ে গেলে এই খাবারগুলোই আপনার ত্রাতা হয়ে উঠবে।

এককথায় আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, পুজোর আসল আনন্দ হল প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। তাই বৃষ্টিকে একটু উপভোগ করেই নিয়েই জমিয়ে ঘুরে বেড়ান এই পুজোয়।

ADVERTISEMENT