আলিপুরদুয়ার, ২৮ সেপ্টেম্বর: লঙ্কার চাষ এই এলাকায় হয় না, কিন্তু ডুয়ার্স এলাকার অন্যতম বড় চা বাগান রয়েছে এই এলাকায়। যার নাম লঙ্কাপাড়া চা বাগান। আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তে অবস্থিত লঙ্কাপাড়া এলাকাটি।
জলদাপাড়া ভ্রমণ তো অনেক হল, এবারে ঘুরে দেখুন জলদাপাড়ার কাছে অবস্থিত লঙ্কাপাড়া এলাকাটি। আলিপুরদুয়ারের ভুটান সীমান্ত অবস্থিত লঙ্কাপাড়া চা বাগান। ১৫ বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে এটি। কিন্তু এই চা বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোনও অভাব নেই। উত্তর দিকের ভুটান পাহাড়ের ঢাল থেকে নেমে এসেছে তিতিখোলা নদী। বর্ষায় চারিদিকে সবুজের ঢল নামে। অশান্ত লঙ্কাপাড়াতে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের বিকল্প আয়ের দিশা দেখাতে প্রকৃতির আঁচলে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে একটি ইকোপার্ক। এখানে যেমন পিকনিক করা যায়, অন্যদিকে বাচ্চাদের জন্য দোলনা, উঁচু নজর মিনার সবই গড়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে ইকোপার্কে পৌঁছোনোর চড়াই-উতরাই রাস্তাটিও।
ADVERTISEMENT
অফবিট এই এলাকা বর্তমানে আলিপুরদুয়ার জেলাবাসীদের একটি অন্যতম উইকএন্ড ডেসটিনেশন। এলাকার বাসিন্দারা চাইছেন শুধু জেলাবাসী নয়, বাইরের পর্যটকরা এসে দেখে যাক এই শান্ত, স্নিগ্ধ এলাকাটি। যদিও এই এলাকায় নির্মীয়মাণ কটেজ ও সুইমিং পুলের কাজ চলছে। বর্তমানে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর লঙ্কাপাড়া ইকোপার্কটির সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। আলিপুরদুয়ার জেলা শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার দূরে এবং বীরপাড়া থেকে ১৮ কিমি দূরে লঙ্কাপাড়া এলাকাটি অবস্থিত।
আপনি যদি কলকাতা থেকে আসতে চান তাহলে আপনি কাঞ্চনকন্যা ট্রেনটি ধরলে, খুব সহজেই এই এলাকায় পৌঁছে যেতে পারবেন। কারণ দলগাঁও স্টেশনে এই ট্রেনটির স্টপেজ রয়েছে। এছাড়াও শিলিগুড়ি জংশন স্টেশন থেকে ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয় আলিপুরদুয়ার জংশনগামী ট্রেন চলাচল। সবকটি ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে দলগাঁও স্টেশনে। আপনি যদি জলদাপাড়ায় থাকেন তাহলে খুব সকালবেলায় বাসে চেপে পৌঁছে যান বীরপাড়ায়। সেখান থেকেই পেয়ে যাবেন লঙ্কাপাড়ায় যাওয়ার গাড়ি অথবা ইরিক্সা। দলগাঁও স্টেশনে নেমে আপনি একটি হোটেলে চেকইন করে নিন। হোটেল ভাড়া সাধারণত ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যেই হয়। এরপর আপনি ইরিক্সা অথবা গাড়ি বুক করে পৌঁছে যেতে পারবেন লঙ্কাপাড়াতে। এই ক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল আপনি ইরিক্সা বা গাড়ি, যে কোনও একটি যাতায়াতের হিসেবে বুক করে নেবেন। কারণ লঙ্কাপাড়ায় এখনও থাকার কোনও জায়গা হয়নি।
গাড়ি এবং ইরিক্সার যাতায়াতের ভাড়া ৫০০-৭০০ টাকা হয়। সকাল, দুপুর অথবা বিকেল যখনই আসবেন খাবার নিয়ে আপনাকে মাথা ব্যথা না করলেও চলবে। স্থানীয় মহিলাদের হাতের তৈরি মোমো, থুকপা ও নানা স্বাদের পাহাড়ি খাবার খেয়ে আপনার মন ও পেট দু'টোই ভরবে। আছে পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা। এই স্থানটি ফটোজেনিক, আপনি যেখানেই দাঁড়াবেন সেখানেই ফটো ভাল আসবে। স্থানীয় সেলফি জোন রয়েছে। ফেরার সময় মাকরাপাড়া ঘুরে দেখতে পারেন। এলাকায় রয়েছে একটি বর্ষপ্রাচীন কালী মন্দির।
আদৰ্শ গুরুং নামের এলাকার এক বাসিন্দা জানান, "বাইরের পর্যটকরা এলে এই এলাকার আরও আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে। চা বাগান তো বহু বছর হল বন্ধ। এই ইকো টুরিস্ট স্পট আমাদের রোজগারের রাস্তা দেখিয়েছে।"