Loading...

পুজোয় পাহাড়ি ছুটির প্ল্যান করছেন? জেনে নিন কাছে-দূরে কোথায় যেতে পারেন

আকাশের গায়ে শরতের নীল রং ধরতে না ধরতেই মনের ভিতরটা রোদ ঝলমলে হয়ে যায় বাঙালির। বছরভরের অপেক্ষা ফুরোল বলে! ব্যস, ওমনি পায়ের তলার সর্ষেদানারাও নড়েচড়ে ওঠে। পুজোর ছুটি মানেই তো একছুটে বেরিয়ে পড়ার পালা। পাহাড় হোক বা জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাসের ঠিকানা— সে কাছে হোক বা দূরে, কোথাও না কোথাও যেতেই হবে ঠিক! 
এবার পুজোয় পাহাড় যেন টানছে! মন চাইছে শহরের ভিড়ভাট্টা থেকে বহুদূরে নীল-সবুজে ঘেরা একটুকরো ছুটি। চড়াই-উতরাই বেয়ে পাহাড়ি বাঁক ঘুরে পৌঁছে যাওয়া ছবির মতো কোনও ঠিকানায়। ফিরে আসা একবুক অক্সিজেন আর মন জোড়া শান্তি নিয়ে। এই ছুটন্ত জীবন থেকে ছোট্ট বিরতিতে এইটুকুই তো চাওয়া।

তা হলে যাবেন কোথায়?

ADVERTISEMENT

লম্বা ছুটি যাদের দূর অস্ত, তাদের ভরসা রাখতে হয় অল্পদিনের বেড়ানোতেই। মোটে দিন চারেক হাতে? বেশ তো! ঘুরে আসুন উত্তরবঙ্গ থেকে। একটু অফবিট গন্তব্যের খোঁজে থাকলে যেতে পারেন সিটং, চটকপুর, তাকদা কিংবা পানবু। সিটং-এর নিরালা গ্রামে কমলা বাগিচা, চটকপুরে ইকো ভিলেজ আর জঙ্গলের স্বাদ, তাকদার কুয়াশা মাখা পাইন বন কিংবা ব্রিটিশ আমলের বাংলো অথবা নির্জন পানবুকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখা কাঞ্চনজঙ্ঘার অপার সৌন্দর্য— ছুটির ঠিকানা বেছে নিন নিজের সাধ মতো। হোটেল বা হোমস্টে-তে থাকা, খাওয়াদাওয়া আর গাড়িভাড়া মিলিয়ে  মাথা পিছু ৬০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা বাজেটের মধ্যে নিজের প্ল্যান মাফিক বেশ আরাম করেই ঘুরে আসতে পারেন। হাতে একটু লম্বা ছুটি আছে, তবে বেরিয়ে পড়তেই পারেন উত্তর, দক্ষিণ কিংবা পশ্চিম ভারতের উদ্দেশ্যে। পাহাড়ের স্বাদ কিন্তু এক এক দিকে এক এক রকম।

আরও পড়ুন

পাহাড়ি ছুটির খোঁজে অনেকেই উত্তর ভারতে যেতে ভালবাসেন। উত্তরাখণ্ড কিংবা হিমাচলে ছড়িয়ে আছে অজস্র মনের মতো ঠিকানা। ভিড়ের নাগাল এড়িয়ে ঘুরে আসতে চাইলে আছে উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউন কিংবা মুন্সিয়ারী অথবা হিমাচলের কসোল কিংবা ডালহৌসি। ল্যান্সডাউন বা মুন্সিয়ারীর নিরিবিলি আরামে হাত-পা ছড়িয়ে কাটিয়ে আসতে পারেন কয়েকটা দিন। নিখাদ পাহাড়ি নির্জনতায় ঘুরে দেখা এদিক সেদিক। শীতের ওম, জংলা ফুলের গন্ধ আর ঝলমলে রোদ মেখে বেশ কাটবে। পাহাড়ি স্বাদ আরও বেশি করে উপভোগ করতে ট্রেকিং কিংবা অ্যাডভেঞ্চারের শখ? তবে কসোল হতেই পারে ছুটির ঠিকানা। লেহ যাওয়ার সুযোগ নেই? তার বরফঢাকা পাহাড়চূড়ার সঙ্গে কিন্তু দেখা হতে পারে ডালহৌসিতে বসেই। সঙ্গে আছে বন্যপ্রাণের বাড়তি স্বাদ। উত্তরের এই গন্তব্যগুলোয় দিন সাতেকের ছুটি কাটিয়ে আসতে পারেন মাথা পিছু ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে। কোথায় কোথায় যাবেন, কেমন হোটেল বা হোমস্টে-তে থাকবেন, কী কী দেখবেন, সেই অনুযায়ী হেরফের হবে খরচের অঙ্কে।


পশ্চিমের সৌন্দর্যই বা কম কীসে! ওদিকটায় যেতে চাইলে ঘুরে আসা যায় আম্বোলি, জওহর কিংবা সাপুতারা থেকে। সহ্যাদ্রি হিলসের গায়ে আম্বোলি মহারাষ্ট্রের একেবারে শেষপ্রান্তের পাহাড়ি ঠিকানা। ঘন কুয়াশা, সবুজ বন আর জলপ্রপাতের সৌন্দর্যে বড্ড মনকাড়া। পাহাড়ের কোলে ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম জওহর ধরে রেখেছে ওয়ার্লি শিল্প-সংস্কৃতি। অন্যদিকে, গুজরাতের একমাত্র পাহাড়ি গন্তব্য সাপুতারা তার বিশাল লেক, পাহাড়ের ধাপে ধাপে স্টেপ গার্ডেন নিয়ে ভারী মনোরম। দিন সাতেকের মাথাপিছু খরচের অঙ্ক থাকতে পারে ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে। বাজেট ট্রিপ নাকি বিলাসবহুল ছুটি, সেই অনুযায়ী বদলাবে তার অঙ্ক।


দক্ষিণী পাহাড়ের স্বাদ আবার আরও অন্য রকম। দিন সাতেকের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ওয়ানাড, কুন্নুর কিংবা অনন্তগিরি হিলস থেকে। কেরালার ওয়ানাড তার সবুজ পাহাড়, জংলা ছুটির স্বাদ আর অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বেশ বিখ্যাত। ট্রেকিং কিংবা আলসে আরাম, দুয়ের জন্যই দিব্যি বেছে নিতে পারেন তামিলনাড়ুর কুন্নুর। পাহাড়ের অতুলনীয় সৌন্দর্যে মোড়া তেলেঙ্গানার অনন্তগিরি আবার হরেক রকম নাম-না-জানা পাখি, জীবজন্তু, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের ডালি সাজিয়ে বসে। দিন সাতেকের দক্ষিণী ছুটির খরচ ঘোরাফেরা করবে মাথাপিছু ১৩ থেকে ৩০ হাজারের মধ্যে। এবার আপনি কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, খরচের হেরফের সেই অনুযায়ী।

তবে হ্যাঁ, যেখানেই যান, বাজেটে যোগ হবে কলকাতা থেকে আসা-যাওয়ার খরচ। তবে গন্তব্য ঠিক করার ক্ষেত্রে সবার আগে দেখে নিন তার আবহাওয়ার ধরন, থাকা এবং যাতায়াতের সুবিধা-অসুবিধা, ধস নামা বা অন্যান্য ঝুঁকির দিকগুলো। বেড়াতে গিয়ে বিপদে পড়ার মানে নেই।

তারপর ব্যস্ততা থেকে দূরে, শহরের ক্যাকোফোনি থেকে দূরে আলসে একটা ছুটি। ফিরে আসবেন যখন, উদ্বেগ-ভয়-ক্লান্তি মুছে ফেলে আপনি একেবারে অন্য মানুষ!

ADVERTISEMENT