Loading...

'সংসারে মেয়েদের কতটা সম্মান প্রাপ্য, সেটাই সমাজ জানে না', লোপামুদ্রা মিত্রর ভাবনায় 'লক্ষ্মী’রা কেমন?

  • সায়নী মুখার্জি

  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫

তাঁর উদাত্ত কণ্ঠস্বরে গান কখনও হয়ে ওঠে প্রতিবাদ আবার কখনও সে গান হয়ে ওঠে অনাবিল আনন্দের ভাষা৷ তবে শুধু গান নয়, সুর তাল ছন্দের পাশাপাশি ব্যবসাও সামলান গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্র৷ তাঁর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বহু মানুষের অন্নসংস্থানের দায়ভারও তাই শিল্পীর কাঁধে৷ তবে দায় দায়িত্ব সামলেই তিনি হইহই করে বাঁচার কথা বলেন৷ তাঁর কর্মযজ্ঞে 'লক্ষ্মী' সদা বিরাজমান৷ কিন্তু লক্ষ্মীরা আসলে কেমন? প্রতিবাদী না নির্বিবাদী? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে লোপামুদ্রা মিত্র বলেন, " লক্ষ্মী ঠাকুর বললে তাঁর মনে হয় ধনসম্পদের দেবী৷ কিন্তু লক্ষ্মী মেয়ে মানে কি এখন আর আগের মতো শান্ত নম্র আস্তে কথা বলা মেয়ে নয়৷ এখন সকলেই লক্ষ্মী৷ যে কোনও কাজ যে খুব সুন্দর করে করবেন, তিনিই লক্ষ্মী৷" কিন্তু সমাজ কি এখনও মেয়েদের শান্ত বাধ্য হিসাবে দেখতে চায়? লোপামুদ্রার মনে হয় না৷ নিজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমি যদি এখন শান্ত বাধ্য হয়ে যাই তাহলে তো মানুষজন আমার মনে হয়, আমাকে পছন্দ করবেন না।"

কেরিয়ার আর সংসার এই দুই একাহাতে সামলাতে গেলে সময় এবং পরিস্থিতি বিশেষে প্রাধান্য বদলানো স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিক বিষয়টা মেয়েদের জীবনে ততটা স্বাভাবিক নয়৷ কিছু ক্ষেত্রে মেয়েরা বলে থাকেন, আমাকে কাজ করতে দেয় অথবা আমার শ্বশুরবাড়িতে চাকরি করা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই৷ আর্থিক স্বাধীনতা যে অন্য কারও নির্দেশ বা ছাড়পত্রের বিষয় নয়, বরং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সেই বোধ যেমন একাংশের মেয়েদের মধ্যে তৈরি হয় না। তেমনই আবার মেয়েদের কাছেই প্রত্যাশা থাকে ঘরে বাইরে সে সবটা সামলে নেবে৷

ADVERTISEMENT

লোপামুদ্রা বলেন, এমন মেয়েও যদি থাকেন যিনি খুব সুন্দর করে কেরিয়ারটাই সামলাচ্ছেন, সংসারের দায়িত্ব নিতে চান না তারপরেও সেই মেয়েটির উপর সংসারের যে দায়বদ্ধতা থাকে, সেটা সাধারণ চোখে হয়তো ততটা দেখা যায় না কিন্তু ভিতর ভিতর সেই দায়বদ্ধতা চলতেই থাকে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মেয়েরা যা খুশি করুক কিন্তু দায়িত্বের বোঝাটা থাকবেই৷ এটা এখনও পর্যন্ত অনুভব করি যে ঘরের দায়িত্বটা সামলাতেই হবে৷"

আরও পড়ুন

বিয়ের পরবর্তী সময় সংসার আসলে দু'জন মানুষের৷ সেখানে মহিলাটি একা হাতে সংসারের সকল দায়িত্ব সামলাবেন এই অলিখিত নিয়ম বছরের পর বছর এমনভাবে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে জীবনকে যে সেখানে পুরুষদের ঘরকন্নার দায়িত্ববোধ যেন নিস্ক্রিয় থেকে যায়৷ লোপামুদ্রা বলেন, "ছেলেরা বলেন, কেন আমি তো করছি এই করছি ওঁরা বুঝতেই পারেন না, যদিও এক্ষেত্রে বেড়ে ওঠা অনেকটা দায়ী৷ কীভাবে সে দেখেছে, জেনেছে সবটা মিলে তাঁর ধারণা গঠন। এসব নিয়ে অনেক সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে৷"

বাস্তবিক ক্ষেত্রেও আর্থিক স্বাবলম্বী, শিক্ষিত মেয়েদের জীবনে সংসারকেন্দ্রিক নানা অসম্মানের মুখোমুখি হতে হয়৷ যে অসম্মান হয়তো তাঁর প্রাপ্য নয়৷ এই প্রজন্মের মেয়েরা নারী স্বাধীনতার কথা বলে৷ ফেমিনিজম নিয়ে এত কথা শোনা যায় চারপাশে কিন্তু সত্যি কি মেয়েদের ন্যায্য স্বাধীনতা বা সম্মান দেওয়া হয় আজকের সমাজে? লোপামুদ্রা মিত্র বলেন, "না, না, না। এবং যতটুকু দিচ্ছি সেটাই অনেক। কতটা স্বাধীনতা আর কতটা সম্মান মেয়েদের দিতে হয় সেটাই সমাজ এখনও ঠিক ভাবে জানে না৷ সেটাই শেখানো হয়নি।"

ADVERTISEMENT