পুজোর কটা দিন অফিসের ট্রেন ধরার তাড়া নেই। বসের মিটিং নেই। কিন্তু আছে কলকাতার রাস্তায় লোকের ভিড়। সারা মাস অফিস-বাড়ি ভিড় বাস ট্রেনের ঠেলা কাটিয়ে কটা দিন নিশ্চিন্তে থাকতে চান! যেখানে সকাল হলেই চোখের সামনে দেখতে পাবেন সবুজের গালিচা। কোথাও ধূসর পাহাড়, কোথায় আবার ধোঁয়া ওঠা কফির কাপের সঙ্গে চোখ খুললেই দেখবেন কাঞ্চনজঙ্খা। রইল পুজোয় পাঁচ জায়গায় ভ্রমণের ঠিকানা।
তাকদা
আঁকাবাঁকা মসৃণ পথের দু’পাশে ছড়িয়ে চা বাগান। সেই চা বাগানের মাঝে মাঝে পাইন আর সিডার গাছ। পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট বাড়ি। এখানেই রয়েছে পেমা সোলিং গুম্ফা। এখানে আকাশে মেঘ না থাকলে আপনার হোমস্টের বারান্দায় বসেই দেখতে পাবেন কাঞ্চনজঙ্খা। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। এনজিপি নেমেই শেয়ারে গাড়ি পেয়ে যাবে ভাড়া আনুমানিক ২ হাজার টাকা মাথাপিছু।একাধিক হোম স্টে ও সরকারি বাংলো রয়েছে। কটা সবুজ চা বাগান সঙ্গে কমলালেবুর বাগান। ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ পায়ে হেঁটে ঘুরে ফেলতে পারবেন এলাকা।
সিটং
নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন, শিলিগুড়ি কিংবা বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সিটংয়ের দূরত্ব প্রায় ৭৬ কিলোমিটার। তুলনামূলকভাবে এই জনপদে পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক কম। এটি একটি লেপচা গ্রাম। এক কথায় প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে যেন অবসর যাপনের আস্তানা।শহরের কোলাহল থেকে দূরে, পাহাড়ের সবুজে ঘেরা এক শান্ত উপত্যকা। পাশে বয়ে চলেছে রিয়াং নদী, চারপাশে সবুজ পাহাড় আর ছোট ছোট ঝরনা। দার্জিলিং হিমালয়ের পাদদেশে এমনই এক ছবির মতো গ্রাম সিটং। স্থানীয়দের কাছে এই জায়গার পরিচিতি ‘কমলালেবুর গ্রাম’।তবে শুধু কমলালেবুই নয়, সিটংয়ের আসল আকর্ষণ তার নির্জনতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পর্যটনকেন্দ্রের চেনা ভিড় থেকে দূরে এখানে সময় কাটানো মানে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। পাহাড়ি হাওয়া, নদীর শব্দ, সবুজ উপত্যকা আর কমলালেবুর বাগান—সব মিলিয়ে সিটং হয়ে উঠতে পারে কয়েক দিনের শান্তির ঠিকানা।যাঁরা পাহাড়ে গিয়ে শুধুই ভিড় আর বাণিজ্যিক পর্যটনের বদলে একটু নিরিবিলি পরিবেশ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য সিটং হতে পারে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে শীতকালে কমলালেবুর মরশুমে এই পাহাড়ি গ্রামের সৌন্দর্য যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
চটকপুর
দার্জিলিং জেলার সেনচাল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির মধ্যে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট পরিবেশবান্ধব গ্রাম। বিশ্বায়নের যুগেও অনেকটাই নিরিবিলি। চারপাশে ঘন সবুজ জঙ্গল, দূরে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা আর পাহাড়ি গ্রামের শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে চটকপুর এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৮৮৭ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত চটকপুর। নিউ জলপাইগুড়ি বা বাগডোগরা থেকে এর দূরত্ব আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার। দার্জিলিং থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার এবং জোরবাংলো-ঘুম থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে এই পাহাড়ি গ্রাম।
চটকপুরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক পরিবেশ। একদিকে সেনচাল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির ঘন সবুজ বন, অন্যদিকে পাহাড়ের মাথা থেকে দেখা যায় দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশ্রেণি। সকালের আলোয় বরফঢাকা পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যের রং বদলে যাওয়ার দৃশ্য হতে পারে এই সফরের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
তবে চটকপুরের সৌন্দর্য শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাত্র কয়েকটি পরিবারের বসবাসের এই গ্রামটির পরিবেশে রয়েছে এক ধরনের নিস্তব্ধতা।
রামধুরা
রামধুরা হিমালয়ের কোলে গড়ে ওঠা ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ। চারপাশের পাইন ও সিডার গাছের বন।প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ আর পাহাড়ি আবহ—দুয়ের মেলবন্ধনে রামধুরা হয়ে উঠতে পারে কয়েক দিনের ছুটির সুন্দর ঠিকানা। শিলিগুড়ি থেকে রামধুরার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ফলে কালিম্পং এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকা ঘোরার পরিকল্পনায় রামধুরাকে বেছে নেওয়া যায়।
রামধুরার অন্যতম আকর্ষণ ছোট্ট গ্রাম তার চারপাশে পাইন ও সিডার গাছের সারি। চারপাশের সবুজ মিলে এখানে তৈরি হয়েছে এক শান্ত পরিবেশ। পর্যটনকেন্দ্রের অতিরিক্ত ভিড় থেকে দূরে প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটাতে যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য জায়গাটি বিশেষ আকর্ষণীয় হতে পারে।রামধুরাতে থাকার আরেকটা সুবিধা হল এই জায়গার আশেপাশে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জনপ্রিয় পাহাড়ি জায়গা রয়েছে। যেমন লাভা, লোলেগাঁও এবং শেলিগাঁও। ফলে একই সফরে রয়েছে একাধিক পাহাড়ি জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ।
রংবুল
চা-বাগানের মাঝে থাকতে চান কিন্তু জায়গাটা হতে হবে অফবিট তাহলে রংবুল আদর্শ ঠিকানা। চা-বাগানের মধ্যে ছোট্ট গ্রাম, সকাল হলেই দেখতে পাবেন চারপাশে সবুজ পাহাড়, জঙ্গল আর উপত্যকার মনোরম দৃশ্য—শহুরে ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে এমন জায়গাই তো চাই! চা-বাগানের বুকেই রয়েছে এই গ্রাম্য রিসর্ট। রিসর্ট থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে দার্জিলিং। ফলে এক দিনের সফরে অনায়াসেই ঘুরে আসা যায় সঙ্গে পেটপুজো রয়েছে। পাশাপাশি ঘুরে দেখা যায় ঘুম মঠ, বাতাসিয়া লুপ এবং কার্শিয়াং।
শুধু পাহাড় দেখা নয়, অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগও রয়েছে এখানে। এই জায়গাটির খুব কাছে রয়েছে ইন্দ্রাণী জলপ্রপাত। সেখানে অনায়াসেই ট্রেক করতে পারেন। এছাড়াও আশপাশের জঙ্গলে রয়েছে বার্ড ওয়াচিংয়ের সুযোগ।