Loading...

বৃষ্টির ‘অসুরে’ থমকে মায়ের প্রতিমা তৈরির কাজ! অর্ণবের দাপটে মাথায় হাত মৃৎশিল্পীদের

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। হাতেগোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ইতিমধ্যেই পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত এক করে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু দুর্গাপ্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তে যেন ‘অসুর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে লাগাতার বৃষ্টি। আর সেই বৃষ্টির জেরে কার্যত থমকে রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের কলাগাছিয়া এলাকার মৃৎশিল্পীদের কাজ।

প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর তা ভালভাবে শুকিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপরই শুরু হয় রং ও সাজসজ্জার কাজ। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে দেখা নেই রোদের। ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রতিমা শুকোতে সময় লাগছে অনেক বেশি। একদিকে সময়ের চাপ, অন্যদিকে আবহাওয়ার বাধা— দুইয়ের মাঝে পড়ে কার্যত দুশ্চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা। কলাগাছিয়া এলাকায় এখন প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। কোনও শিল্পী কাঠামোয় খড় বাঁধছেন, কেউ মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন। আবার কোথাও তৈরি হয়ে যাওয়া প্রতিমাকে শুকনো রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কোনও কাজই নির্ধারিত গতিতে এগোতে পারছে না।

ADVERTISEMENT

মৃৎশিল্পী সুশান্ত চিত্রকর বলেন, “ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরে প্রতিমা শুকোতে দেরি হচ্ছে। ফলে কাজও থমকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু পুজো কমিটি থেকে ফোন আসছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করে দেওয়া যাবে কি না, তা জানতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। তাই দিনরাত এক করে কাজ চলছে।”

আরও পড়ুন

Pujo

বৃষ্টির কারণে প্রতিমার মাটি শুকোতে দেরি হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র।

তবে আবহাওয়া একই রকম থাকলে প্রতিমা শুকনোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন সুশান্ত। ব্লো ল্যাম্প বা অন্যান্য কৃত্রিম উপায়ে প্রতিমা শুকানোর ব্যবস্থা করতে হলে বাড়তি খরচ হবে। ফলে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কিছুটা আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

শুধু প্রতিমা শুকোনোর সমস্যাই নয়, বৃষ্টির কারণে শ্রমিকদের উপস্থিতিতেও প্রভাব পড়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রমিক নিয়মিত কাজে আসতে পারছেন না। ফলে হাতে সময় কম থাকলেও কাজের গতি বাড়ানো যাচ্ছে না। একাধিক প্রতিমার কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে বাড়ছে চাপ।

Pujo

কাঠামোয় মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে। নিজস্ব চিত্র।

অপর এক মৃৎশিল্পী সমর গায়েন জানান, বৃষ্টির জন্য অনেক কাজই থমকে রয়েছে। প্রতিমা ঠিকমতো শুকোচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন থাকলে প্রতিমা শুকনোর জন্য ব্লো ল্যাম্পের ব্যবস্থা করতে হবে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা যথেষ্ট দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।

মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, প্রতিমা তৈরির কাজ শুধু মাটি দিয়ে মূর্তি গড়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময়, শ্রম এবং শিল্পীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করে পুজো উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দিতে না পারলে তাঁদের যেমন সমস্যায় পড়তে হবে, তেমনই সমস্যায় পড়বেন পুজো কমিটিগুলিও।

PUJO

আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করেই মূর্তি গড়ার কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। নিজস্ব চিত্র।

তাই এখন মৃৎশিল্পীদের একটাই প্রার্থনা, আকাশ পরিষ্কার হোক, দেখা মিলুক রোদের। আবহাওয়া একটু অনুকূলে এলেই দ্রুত প্রতিমা শুকিয়ে রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করার প্রস্তুতি রয়েছে তাঁদের। প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ডায়মন্ড হারবারের মৃৎশিল্পীরা।

প্রকৃতির বাধা কাটিয়ে সময়ের আগেই মণ্ডপে পৌঁছবে মা দুর্গা, এই আশাতেই এখন দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন কলাগাছিয়ার মৃৎশিল্পীরা।

ADVERTISEMENT