আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক শহরের আরাধ্য দেবী মা বর্গভীমা। কালীপুজোর বিশেষ দিনে রাজরাজেশ্বরী রূপে সজ্জিত করা হয়েছে দেবীকে। রাজকীয় সাজে অপরূপা মায়ের দর্শন পেতে সকাল থেকেই মন্দিরে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য ভক্ত। বিশেষ পুজো, ভোগ নিবেদন এবং নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে কালীপুজো।
প্রায় পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিত তমলুকের এই বর্গভীমা মন্দির। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, একান্ন পীঠের অন্যতম এই পীঠে সতীর বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল। সেই থেকেই এখানে দেবী বর্গভীমা শক্তিরূপে পূজিতা হয়ে আসছেন।
তমলুকের মানুষের কাছে মা বর্গভীমা শুধু আরাধ্য দেবী নন, শহরের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের অন্যতম প্রতীক। কথিত আছে, তমলুক শহর তথা আশপাশের এলাকায় কোনও শক্তিপুজো শুরু করার আগে আজও মা বর্গভীমার কাছে অনুমতি নেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে।
কালীপুজোর দিন বিশেষভাবে রাজবেশে সাজানো হয় মাকে। অন্নভোগের পাশাপাশি নানা রকমের ব্যঞ্জন নিবেদন করা হয় দেবীর উদ্দেশে। প্রাচীন রীতি মেনে মায়ের ভোগে থাকে শোল মাছের ঝোলও। ভক্তরা মনস্কামনা পূরণের আশায় মিষ্টি, তাল, ওল, কচু ও শোল মাছ নিয়ে মন্দিরে হাজির হন।
ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শনও এই বর্গভীমা মন্দির। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ মায়ের কাছে পুজো দিতে আসেন। কালের স্রোতে বহু ইতিহাস বদলে গেলেও আজও স্বমহিমায় বিরাজ করছেন তমলুকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা বর্গভীমা। কালীপুজোর দিনে রাজরাজেশ্বরী রূপে মায়ের বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে তাই ভক্তদের আবেগ ও উৎসাহ চোখে পড়ার মতো।