আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদহ শহরের দুর্গাবাড়ি মোড়। মহানন্দা থেকে কয়েকশো মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মন্দিরটাই মালদার সবচেয়ে প্রাচীন পুজোর সাক্ষী। বয়স প্রায় সাড়ে ৩৫০ বছর।
ইতিহাস বলছে, মহানন্দার নিমতলী ঘাটে স্নান করতে গিয়ে এক বৃদ্ধা জলে একটি গোলাকার পাথর-চক্র পান। রাতেই স্বপ্নাদেশ- মা চণ্ডী রূপে পুজো করো। সেই পাথরকেই দেবী জ্ঞানে পুজো শুরু। পরে বৃদ্ধা পাথরটি দিয়ে যান জমিদার গিরিজাকান্ত দাসকে। জমিদারের হাত ঘুরে দায়িত্ব আসে আদি কংসবণিক সম্প্রদায়ের হাতে।
১২৭৫ বঙ্গাব্দে লক্ষ্মীকান্ত দত্তরা ইংরেজবাজারের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠা করেন বিশাল দুর্গাবাড়ি মন্দির। যা আজ ১৭৬ বছরের।
এই পুজোর রীতি একেবারে আলাদা। নৈবেদ্য থেকে পুজোর সমস্ত জোগাড় করেন পুরুষরাই। মহিলারা শুধু পুজোর আনন্দে সামিল হন। একচালাতে ২২ মূর্তি - ওপরে শিব, পাশে নন্দী-ভৃঙ্গী, মাঝে রাম-লক্ষ্মণ, নীচে সপরিবার দুর্গা। ডাকের সাজ, হরিণ চোখ আজও অটুট।
মহালয়া থেকে রোজ চণ্ডীপাঠ, সপ্তমীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। দশমীতে মাকে কাঁধে করে নিমতলী ঘাটে নিয়ে গিয়ে নৌকাবিহার করিয়ে বিসর্জন - এটাই ঐতিহ্য। এখনও পুজোয় ২০০ পরিবার একজোট হয়।