Loading...

সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে আজও অমলিন ২২৫ বছরের ঐতিহ্য, পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়েই শুরু হয় এই জমিদার বাড়ির পুজো

আজকাল ওয়েবডেস্ক: সময় বদলেছে, জমিদারি নেই। বিশাল জমিদার বাড়ির গায়ে বয়সের ছাপ, বিভিন্ন অংশে ধরেছে ফাটল। দেশভাগের পর জমিদারি এলাকার সিংহভাগই চলে গিয়েছে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে। তবু হারিয়ে যায়নি প্রায় ২২৫ বছরের পুরনো ঐতিহ্য। মালদহের হাবিবপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তিলাসন এলাকার সিঙ্গাবাদ জমিদার বাড়িতে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় দুর্গাপুজো। আর এই পুজোর সূচনাতেই রয়েছে এক অভিনব প্রথা। শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়ে সূচনা হয় পুজোর।

উত্তরপ্রদেশ থেকে ব্যবসার সূত্রে বাংলায় এসেছিলেন অবোধ নারায়ণ রায়। হাবিবপুরের সিঙ্গাবাদ স্টেশনে ট্রেনে করে ডাল নিয়ে আসতেন তিনি। সেখান থেকে নৌকাপথে সেই ডাল পাঠানো হত ঢাকা, রাজশাহি এবং কলকাতার খিদিরপুর বন্দরে। ব্যবসার সুবিধার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকায় এই এলাকায় জমিদারিত্ব কিনে নেন তিনি। পরে জমিদারি এলাকার মঙ্গল কামনায় তিনজন সাধুর পরামর্শে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন অবোধ। সেই থেকেই শুরু এই পুজোর। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে ২২৫ বছর। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই পুজো ঘিরে ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা। একসময় হাজার হাজার মানুষ এই পুজোয় অংশ নিতেন। এমনকি দেশভাগের পরও সীমান্তের ওপার থেকে মানুষ আসতেন পুজো দেখতে।

ADVERTISEMENT

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। রায় জমিদারির সিংহভাগ অংশ চলে যায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)-এ। জমিদারির যে অংশ ভারতে থেকে যায়, সেখানেই এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল রায় জমিদার বাড়ি। সীমান্তের কাঁটাতার থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে থাকা এই বাড়ি আজ জমিদারি হারানোর ইতিহাসেরও সাক্ষী। তবে সময়ের সঙ্গে বদল এলেও পুজোর রীতিতে তেমন কোনও পরিবর্তন আসেনি। সপ্তমীর দিন পুনর্ভবা নদী থেকে জল এনে শুরু হয় পুজোর আনুষ্ঠানিকতা। সেই সময়ই পুরনো রীতি মেনে শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। জমিদার আমলে চালু হওয়া এই প্রথা আজও অক্ষুণ্ণ।

আরও পড়ুন

এই পুজো এবং ভোগ রান্নার দায়িত্বে থাকেন উত্তরপ্রদেশের মৈথিলী ব্রাহ্মণরা। দশমীর দিন পুনর্ভবা নদীতেই হয় প্রতিমা বিসর্জন। পুজোর চারদিন এখনও থাকে পাত পেড়ে খাওয়ার ব্যবস্থা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন সীমান্তের এই গ্রামে, অংশ নেন প্রাচীন পুজোয়। এখন আর আগের মতো সীমান্তের ওপার থেকে মানুষের আসা-যাওয়া নেই। কিন্তু স্থানীয় মানুষের আবেগে এখনও একইভাবে বেঁচে রয়েছে রায় জমিদার বাড়ির পুজো। এ বছরও পুজোকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। সেজে উঠছে পুরনো জমিদার বাড়ি, চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতীক্ষা আর মাত্র কয়েক দিনের। আবারও পাঁচ রাউন্ড গুলির শব্দে, পুনর্ভবার জল আর প্রাচীন রীতির হাত ধরে শুরু হবে তিলাসনের ২২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব।

ADVERTISEMENT