মিল্টন সেন, হুগলি: থিমের নাম 'মাটির টানে'। এই মাটির টান, মানে বাড়ি ফেরার টান। মাটির টানে মা দূর্গা মর্তে আসেন। মাটিই হল সব কিছুর মূল উৎস। শৈশবকে মনে করিয়ে দেবে পঞ্চাশ বছরে চুঁচুড়া রামমন্দির বারোয়ারির থিম।
মাটির টানে ফিরবে শৈশবের স্মৃতি, ৫০ বছরে চুঁচুড়া রামমন্দির বারোয়ারির নজরকাড়া থিম
ADVERTISEMENT
বড় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম রামমন্দির বারোয়ারি। এবারেও বড় পুজোর মধ্যে অন্যতম থাকার চেষ্টা অবিচল। মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। মণ্ডপ তৈরির মূল উপকরণ দড়ি, পাটকাঠি, মাদুর, চাটাই, ফাইবার, পুতুল, মাটি। টানা দু মাস ধরে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ।
আরও পড়ুন
দিনরাত কাজ করে চলেছেন কালনার শিল্পী দেবব্রত রায়। থিমের সঙ্গে থাকছে মানানসই প্রতিমা। প্রতিমা তৈরি করছেন কালনারই মৃৎশিল্পী গৌতম মন্ডল। বারোয়ারীর সম্পাদক কৃষ্ণ চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, পঞ্চাশ বছরে এলাকার মানুষের চাহিদা ছিল ভাল কিছু করার। সেই অনুযায়ী সকলের সম্মতিক্রমে 'মাটির টানে' থিম বেছে নেওয়া হয়েছে।
মণ্ডপে ঢুকলেই নজরে পড়বে, নানান রকমের আল্পনা, গ্রামীণ হস্তশিল্প। ব্যবহার করা হয়েছে মাদুর পাট, পাটকাঠি, চাটাই ইত্যাদি। সবকিছুর উপরে থাকছে মাটির প্রলেপ। কৃষ্ণবাবু আরও জানিয়েছেন, মণ্ডপে প্রবেশ করলে দর্শনার্থীদের শৈশবের কথা একবার হলেও মনে পড়বে। যেসব সাধারণত এখন আর নজরে পরে না।
পাশাপাশি মূলত যেগুলি ব্যবহারের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, সেরকম কোনও কিছুই মণ্ডপ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়নি। কোনও রকম দাহ্য সামগ্রীর ব্যবহার ছাড়াই তৈরি থিমের কাজ করা হচ্ছে। যেখানে যেখানে থার্মোকল প্রয়োজন সেখানে ফাইবার সোল ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিল্পী দেবব্রত রায় জানিয়েছেন, দীর্ঘ দুমাস ধরে তিনি কাজ করছেন। তাঁর সঙ্গে আরও ৬ জন কর্মী রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন।
মহালয়ার মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এই প্রসঙ্গে বারোয়ারীর যুগ্ম সভাপতি কিশোরী মোহন ধর এবং কীর্তি নারায়ণ চন্দরা আশাবাদী এবছর রামমন্দির বারোয়ারীর থিম দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পুজো মণ্ডপে থাকছে পাণ্ডুয়ার আলোক শিল্পী শম্ভু। তাঁরা আশাবাদী কারণ প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে মাটির একটা যোগ থেকেই যায়। তাই এই থিম দর্শনার্থীদের মন কাড়বে, এবং তাঁদের পরিশ্রম সফল হবে।
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT