মিল্টন সেন, হুগলি: চন্দননগরের আলোয় এবার আরও বর্ণময় হয়ে উঠতে চলেছে শারদোৎসব। কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্রই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। আর সেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আলোর শহর চন্দননগরের আলোকশিল্পীরা। পুজোর থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে একের পর এক অভিনব আলোকসজ্জা।
চন্দননগরের আলোয় মাতবে দুর্গাপুজো! রামমন্দির, ভারতমাতা থেকে মেকানিক্যাল রাম, অভিনব চমক এবার আলোকসজ্জায়
ADVERTISEMENT
কোথাও দেখা যাবে কেদারনাথ মন্দির, কোথাও রামমন্দির কিংবা ভারতমাতার প্রতিকৃতি। থাকছে আলোর তৈরি মেকানিক্যাল রামচন্দ্র ও বজরংবলী, অশোকস্তম্ভ এবং ত্রিমাত্রিক পদ্মফুল। পাশাপাশি দর্শকদের নজর কাড়তে আসছে আলোর তৈরি ‘অ্যানিম্যাল কনসার্ট’। সেখানে হাতি, হরিণ, বাঘ, সিংহ ও জিরাফকে দেখা যাবে নাচের ভঙ্গিতে।
আরও পড়ুন
চাহিদা অনুযায়ী চলছে আলোকসজ্জা তৈরির কাজ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুজো মণ্ডপে আলো পৌঁছে দিতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন চন্দননগরের শিল্পীরা। কলকাতা ছাড়াও হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, কোচবিহার, আসানসোল এবং অসমের বিভিন্ন পুজোয় চন্দননগরের আলো শোভা পাবে।
চন্দননগরের পরিচিত আলোকশিল্পী সোমনাথ শেঠ জানিয়েছেন, এবছর আলোকসজ্জার বাজার মোটের উপর ভাল। কমবেশি কাজ পেয়েছেন প্রায় সমস্ত শিল্পীই। তাঁর তৈরি আলো যাচ্ছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। এবারের বিশেষ আকর্ষণ ‘অ্যানিম্যাল কনসার্ট’।
আলোর তৈরি হাতি, হরিণ, বাঘ, সিংহ ও জিরাফকে নাচের ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এই আলোকসজ্জা তৈরিতে লোহার কাঠামোর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্যাপ টুনি ও নিয়ন আলো। কালীপুজোয় বারাসতে কাজ করবেন তিনি। আর তাঁর তৈরি আলোকসজ্জার অন্যতম বড় আকর্ষণ দেখা যাবে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিদ্যলঙ্কা বারোয়ারিতে।
অন্যদিকে, আলোকশিল্পী দীপক দাস জানিয়েছেন, এবছর কাজ থাকলেও আলোকসজ্জার বাজেট কিছুটা কমেছে। তবুও অভিনবত্বের খামতি নেই। তাঁর তৈরি ৬০ ফুট চওড়া ও ৪৪ ফুট উঁচু রামচন্দ্রের মূর্তি এবার বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। শুধু স্থির মূর্তি নয়, সেই রামচন্দ্রকে তির ছুড়তেও দেখা যাবে। পাশাপাশি থাকছে কেদারনাথ মন্দির-সহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিকৃতি। তাঁর তৈরি আলোকসজ্জা এবার যাচ্ছে হাওড়া, কোচবিহার এবং অসমের বসিরগঞ্জে।
চন্দননগরের কুন্ডু ইলেকট্রিকের কর্ণধার স্নেহাশিস কুন্ডুর কথায়, এবছর ভারতমাতা, ভগবান রাম ও বজরংবলীর প্রতিকৃতির চাহিদা বেড়েছে। হুগলির পাশাপাশি নদিয়া, আসানসোল ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপেও দেখা যাবে তাঁদের তৈরি আলো।
তবে চন্দননগরের আলোকশিল্পের অন্যতম প্রধান শক্তি হলেন নকশা প্রস্তুতকারীরা। পুজো কমিটি ও আলোকশিল্পীদের চাহিদা অনুযায়ী তাঁরাই প্রথমে কাগজে আলোর নকশা আঁকেন। সেই নকশা পরে বড় আকারের ছবি কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক রূপ পায়। এরপর সেই পরিকল্পনা অনুসারে লোহার ফ্রেম ও বোর্ডের কাঠামো তৈরি করে তাতে আলো বসানো হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় নকশাকারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চন্দননগরের আলোকসজ্জার নকশা তৈরির কাজে যুক্ত শিল্পী অসীম কুমার রায় জানিয়েছেন, এবছর রামমন্দির, ভারতমাতা, ভগবান রাম, বজরংবলী ও পদ্মফুলের নকশার চাহিদা যথেষ্ট বেশি। পাশাপাশি লোহার কাঠামোয় স্ট্রিপ লাইট ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে। তবে কাজের বাজারের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না বলেও জানিয়েছেন নকশাশিল্পীরা।
সব মিলিয়ে, অভিনব থিম, বিশালাকার মূর্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এবারও দর্শকদের মুগ্ধ করতে প্রস্তুত চন্দননগরের আলোকশিল্পীরা। কলকাতা থেকে জেলা, দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে তাঁদের তৈরি আলোর গেট ও চলমান আলোকচিত্র যে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে, তা বলাই যায়।
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT