আজকাল ওয়েবডেস্ক: চারদিকে দুর্গাপুজোর আনন্দ, ঢাকের বাদ্যি আর নতুন জামাকাপড়ে সাজের উৎসব। অথচ সেই আনন্দ থেকে বছরের পর বছর দূরে থেকেছেন আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবড়ি চা-বাগানের অসুর সম্প্রদায়ের বহু পরিবার।
অসুর পরিচয় ও প্রাচীন বিশ্বাসের কারণে দুর্গাপুজোর পাঁচটি দিন ঘরবন্দি থাকতেন তাঁরা। তবে সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে সেই ছবি। প্রবীণরা পুরনো রীতি আঁকড়ে থাকলেও পুজোর আনন্দে সামিল হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।
মাঝেরডাবড়ি চা-বাগানের অসুর লাইনে বর্তমানে প্রায় ২৫টি পরিবারের বসবাস। পাশের জলপাইগুড়ির ক্যারন চা-বাগানেও রয়েছে এই সম্প্রদায়ের মানুষের বসতি। চা-বাগানে কাজ করেই মূলত জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা।
সম্প্রদায়ের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার হাতে অসুরের বধের স্মৃতি থেকেই দুর্গাপুজোর সময় নিজেদের উৎসব থেকে দূরে রাখতেন অনেকে। মণ্ডপে যাওয়া, দেবী দর্শন, এমনকী নতুন পোশাক কেনাও এড়িয়ে চলতেন তাঁরা।
৭২ বছরের নন্দু অসুর এখনও সেই রীতি মেনে চলেন। তাঁর কথায়, “আমাদের বাবা-মা, ঠাকুরদা-ঠাকুমা পুজোয় যেতে বারণ করেছিলেন। তাই আমরা বাড়িতেই থাকি। তবে এখনকার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিরা নতুন জামাকাপড় কেনে, মা দুর্গার দর্শনও করে।”
অন্যদিকে, রাজেশ অসুরের কথায়, সময় বদলেছে। এখন তাঁরা পুজো দেখতে বের হন, নতুন পোশাক কেনেন এবং সন্তানদেরও পুজোর আনন্দে সামিল করেন।
বিশ্বাস আর আধুনিকতার এই টানাপোড়েনে বদলাচ্ছে বহু বছরের রীতি। প্রবীণদের কাছে পুরনো বিশ্বাসের স্মৃতি থাকলেও নতুন প্রজন্মের কাছে দুর্গাপুজো হয়ে উঠছে আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ। অসুর পরিচয় অটুট রেখেই পুজোর আনন্দে অংশ নিচ্ছে নতুন প্রজন্ম।