আজকাল ওয়েবডেস্ক: নদিয়ার শান্তিপুরের প্রাচীন রায়বাড়ির দুর্গাপুজো শুধু ঐতিহ্যেই নয়, বৈশিষ্ট্যেও অনন্য। প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই পুজোয় নদিয়া জেলার শিহরণ তৈরি হয়। রায় বাড়ির পরিবারের সদস্যরা দেশ বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজন এই পুজো উপলক্ষে সকলেই একত্রিত হন।
এখানে দেবী দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ থাকেন না, একাই পূজিত হন মা দুর্গা। কুলোয় দেবীর ছবি এঁকে পুজো করার প্রথা থেকেই তাঁর নাম হয় কুলোপতি দেবী।
ADVERTISEMENT
কথিত আছে, গৃহকর্তা গৌরহরি ঠাকুরের পুজোর সময় একদিন লালপাড় শাড়ি পরা এক তৃষ্ণার্ত মহিলা বাড়িতে এসে জল চান। তাঁকে জল দেওয়ার পাশাপাশি গৌরহরি ঠাকুরের জন্য তৈরি নাড়ুও খেতে দেওয়া হয়।
এরপর রাতে পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নাদেশ পান ওই মহিলাকেই দেবী রূপে পুজো করার জন্য। কিন্তু সে সময় পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় প্রতিমা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তাই কুলোর উপর দেবীর ছবি এঁকে শুরু হয় পুজো। সেই প্রথাই আজও চলে আসছে।
পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় বেশ কয়েক পুরুষ আগে গৌরচাঁদ রায় গৌড়বঙ্গে জমিদারি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। মুঘলদের অত্যাচারে সেখান থেকে চলে এসে প্রথমে চুঁচুড়ায় বসবাস শুরু করেন।
পরে সেখান থেকেও পালিয়ে শান্তিপুরের বাগআঁচড়া এলাকায় আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীকালে শান্তিপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় আর্থিক অনটনের মধ্যেই কুলোয় আঁকা দেবীকে কেন্দ্র করে পুজোর সূচনা হয় বলে পরিবারের দাবি। এই পুজোর রয়েছে একাধিক বিশেষ রীতি।
পুজোর আগের দিন তৈরি করা হয় আনন্দ নাড়ু। ভোগে থাকে কচুশাক ও ওলের ডাঁটা। নবমীতে দেবীকে মাছ নিবেদন করা হয়। বলি প্রথা থাকলেও এখানে পশুবলি নয়, আখ ও কুমড়ো বলি দেওয়ার রীতি প্রচলিত। পাঁচশো বছরের ইতিহাস, পারিবারিক বিশ্বাস এবং অনন্য আচার অনুষ্ঠানে আজও স্বমহিমায় পূজিত হয়ে আসছে রায়বাড়ির কুলোদেবী।