মনিরুল হক, কোচবিহার: রাজ আমল পেরিয়ে সময় বদলেছে। বদলেছে সমাজের নানা অভ্যাস, জীবনযাত্রার ধরনও। কিন্তু কোচবিহারের মাটিতে আজও অমলিন রাজকীয় ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন। সেই পরম্পরারই এক বিশেষ অধ্যায় বড়দেবী মন্দিরের ‘দেও দেখা’ অনুষ্ঠান। প্রাচীন রীতি ও ধর্মীয় আচার মেনে ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে ফের উঠে এল কোচবিহারের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসের কথা।
কোচবিহারের বড়দেবী মন্দিরে রাজ আমলের নিয়ম মেনে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর ‘দেও দেখা’। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রথা স্থানীয় মানুষের কাছে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং রাজপরিবারের ঐতিহ্য ও কোচবিহারের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, সদর মহকুমাশাসক-সহ প্রশাসনের বিশিষ্ট আধিকারিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
কোচবিহারের বড়দেবীর পুজো বাংলার দুর্গোৎসবের পরিচিত ধারার মধ্যেও স্বতন্ত্র। রাজ আমল থেকে চলে আসা নানা আচার, রীতিনীতি এবং পুজোর বিশেষ পরম্পরা এই উৎসবকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। সময়ের সঙ্গে চারপাশের অনেক কিছু বদলালেও সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা আজও অব্যাহত। ‘দেও দেখা’ অনুষ্ঠানও সেই ধারারই অংশ, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি গুরুত্ব পায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহমান সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।
এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য কেবল মন্দিরের চৌহদ্দিতে সীমাবদ্ধ নয়। কোচবিহারের রাজ ইতিহাসের সঙ্গে যাঁরা পরিচিত, তাঁদের কাছে বড়দেবীর পুজো জেলার অতীতকে ফিরে দেখারও একটি সুযোগ। রাজ আমলের নানা স্মৃতি, প্রাচীন আচার এবং স্থানীয় মানুষের আবেগ মিলেমিশে এই উৎসবকে দিয়েছে স্বতন্ত্র মাত্রা।
প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। ঐতিহ্যবাহী এই রীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কোচবিহারের ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা ফের মনে করিয়ে দিল বড়দেবীর ‘দেও দেখা’।
উৎসবের আবহে তাই বড়দেবী মন্দিরে এই আয়োজন শুধুই একটি ধর্মীয় পর্ব নয়। এটি কোচবিহারের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক যোগসূত্র যেখানে রাজকীয় ঐতিহ্য আজও বেঁচে রয়েছে মানুষের বিশ্বাস, সংস্কার ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে।