Loading...

পুজোর সময় চিৎকার থেকে একটু দূরে নিরিবিলিতে থাকতেই ভাল লাগে: ঋত্বিক চক্রবর্তী

আর মাত্র কয়েকটা দিন। পুজোয় প্ল্যানিং সেরে ফেলেছেন অনেকেই -সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারা। এর মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী-ও। প্রতি বছরের মতো এবারও লাইট-সাউন্ড, ক্যামেরা, অ্যাকশন থেকে তো বটেই, এমনকী শহরের ভিড় থেকে বেশ দূরে পুজো কাটানোর প্ল্যানিং রয়েছে তাঁর।

“পুজোর সময় প্রতিবার যা করে থাকি, এবারেও তাই করছি। পুজোর সময় কলকাতার বাইরে পালিয়ে যাচ্ছি, পুজোর সময় এবারেও এখানে থাকব না। আমাদের জীবনটাই তো সারাক্ষণ আলোকবৃত্তে ঘেরা। বছরের বেশিরভাগ সময়টায় ঘড়ির কাঁটা ধরে-ধরে কাজ, কড়া মেকআপ আর স্পটলাইটের আলোয় কাটাতে হয়। পুজোতে সেসব মানি না। পুজোর এই লম্বা ছুটিটাই নিজেকে একটু শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

ADVERTISEMENT

পুজো নিয়ে আমার বিরাট মাতামাতি ছিল ছোটবেলায়। এখন আর নেই। বহু বছর ধরেই নেই। আসলে পুজোয় আমি কলকাতায় থাকি না। ক্লাস ইলেভেন-টুয়েলভ থেকেই পুজোয় বেড়াতে বাইরে চলে যেতাম। এমন এমন জায়গায় বেড়াতে গিয়েছি যেখানে হয়তো পুজো হয় না বা খুব কম পুজো হচ্ছে। সেটাও একটা অন্যরকম আনন্দ। সেই যে পুজোয় বাইরে বেড়ানো শুরু, তা আজও চলেছে। হয়তো বড় জোর দু'তিনবার পুজোতে কলকাতায় থাকতে হয়েছে....ব্যস ওটুকুই। সত্যি কথা বলতে কী, পুজোর সারা সময়টা জুড়ে এত আওয়াজ, চিৎকার, আলো...মনে হয় এসবের থেকে একটু দূরে নিরিবিলিতে থাকলেই ভাল লাগে। ক্লাস ইলেভেন পর্যন্ত প্রাণভরে পুজো, প্যান্ডেল সব দেখেছি। সেটাই আমার কাছে যথেষ্ট! মোট কথা, কলকাতার পুজো তাই আমার কাছে কোনওদিন আলাদা করে আকর্ষণ তৈরি করে উঠতে পারেনি কোনওদিনও। আর এমনিতেও আমি কলকাতার নয়, মফসসলের ছেলে।

আরও পড়ুন

পুজোর সময় ছুটি থাকে আমার আর অপরাজিতার। ছেলেরও স্কুলে একটা লম্বা ছুটি থাকে। পুজো-ই সেই অবসরটা তৈরি করে যে কারণে ফলে পুজো বলতেই আমার বেড়াতে যাওয়ার কথা মনে হয়। তাই এই অবসরের সময়টা যদি ঠিকভাবে ব্যবহার না-ই করা যায় তাহলে 'ছুটি' বলে আর লাভ কী হল। আর আমার ছেলেও বেড়াতে খুব ভালবাসে। তাই পুজোর ছুটিতে তো বেড়াতে যেতেই হবে আমাদের! এবার পুজোর ছুটিতে কলকাতা ছাড়ছি। চলে যাচ্ছি সেই হিমাচল প্রদেশ... কল্পা-ছিটকুল-লাউল-স্পিতি। আসলে কল্পা, ছিটকুল, লাউল এবং স্পিতি ভ্যালি হিমাচলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং সুন্দর একটি হাই-অল্টিটিউড রোড ট্রিপ সার্কিট। পাহাড়ি গ্রাম, প্রকৃতি যেখানে অপার্থিব সুন্দর। নিজেদের তো বটেই, ছেলেকেও যত প্রকৃতিতে রূপ চেনানো যায় আর কী...সব মিলিয়ে কলকাতায় ফিরতে ফিরতে সেই লক্ষ্মীপুজোয়।

পুজোর সময় কলকাতার চেহারা বদলে যায়। মানুষের ঢল নামে, প্রচুর প্যান্ডেল, প্রচুর হোর্ডিং, রাস্তাঘাটের চেহারা বদলে যায়। আরও অনেককিছু হয় পুজোতে। আর এসব যাতে আমাদের ছেলে আরও ভাল করে বুঝতে পারে, তার জন্য আরও দু'তিনটে পুজো আমাকে কলকাতায় কাটাতে হবে। কারণ আমিও তো ইলেভেন-টুয়েলভ অব্দি পুজোর পরিবেশটা অনুভব করেছি। আর পুজো মানে তো শুধু কলকাতার পুজো নয়। মফস্সলের পুজো, গ্রামীণ মফস্সলের পুজো, বনেদি বাড়ির পুজো, বারোয়াড়ি পুজো...চাই ছেলে সেগুলো দেখুক, বুঝুক নিজের মতো করে। আমার মামাবাড়ি শান্তিপুরে। সেই বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়। সেটাও একটা অন্যরকম আনন্দ। অন্য পরিবেশ। চাইব সেসবের অভিজ্ঞতা হোক আমাদের সন্তানের। আর একটা কথা, আমি ব্যারাকপুরের ছেলে। প্রতিবার পুজোর আগে বাড়ি যাই, পাড়ায় যাই সপরিবারে। এবারও যাব। তারপর ষষ্ঠীর দিন বেরিয়ে পর্ব হিমাচলের উদ্দেশ্যে।

পুজোর শুভেচ্ছা রইল সবাইকে। নিজের মতো আনন্দ করে কাটান আর হ্যাঁ যার যা খুশি, যেটা খুশি প্রাণভরে খাবেন!”

ADVERTISEMENT